এবার ঘুচবে কি অ্যান্টিগা-দুঃখ

আপডেট : ২০ জুন ২০২৪, ১২:২৬ পিএম

২০০৭ সালের আগ পর্যন্ত অ্যান্টিগা ও বারবুডা দ্বীপের সব ক্রিকেট খেলাই চলত অ্যান্টিগা রিক্রিয়েশনাল পার্কে। ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বেশি সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন পড়ায় তৈরি হয় নর্থ সাউন্ডের এই স্টেডিয়াম। নামকরণ করা হয় কিংবদন্তি স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের নামে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই মাঠটির গুরুত্ব এখন বিশেষ। কেননা সুপার এইটে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের দুটির ভেন্যুই নর্থ সাউন্ডের এ গ্রাউন্ডটি।

চুইংগাম চিবোতে চিবোতে প্রতিপক্ষ বোলারদের নাভিশ্বাস ছোটানো ব্যাটিং উপহার দিতেন ভিভ রিচার্ডস। অবশ্য তার নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামটি এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেখাচ্ছে উল্টো চিত্র। এখন পর্যন্ত গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ হয়েছে এ মাঠে। সুপার এইট পর্বে অনুষ্ঠিত হবে আরও চারটি। কেমন আচরণ এখানকার উইকেটের, আবহাওয়ার! বাংলাদেশের সঙ্গে পুরনো কোনো সম্পর্ক আছে কি! সেসবের উত্তর খোঁজার প্রয়াস এ লেখা।

অ্যান্টিগায় হওয়া চার ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে পরে ব্যাট করা দল। নামিবিয়া ও ওমানের ১০০-এর কম করা স্কোরের বিপরীতে রীতিমতো ঝড় তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। ওমান দেড়শ পেরোনো স্কোর করলেও স্কটল্যান্ড সেটি টপকায় ১৩ ওভারে, সাড়ে ১১-এর বেশি রান রেট। স্বভাবজাতভাবে অ্যান্টিগার উইকেটের ওপর প্রভাব ফেলে তখনকার আবহাওয়া। বর্ষাকাল হওয়ায় এবার বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা থাকছে আকাশ। সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ধেয়ে আসা বাতাসের তীব্রতা হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।

এই মাঠে টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাটিং করা দলের গড় স্কোর ১২৮। সর্বোচ্চ ১৫০ রান তাড়া করে জয়ের নজির আছে একটি এবং সেটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ওমান-স্কটল্যান্ড ম্যাচে। ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মাঠে। আগে ব্যাট করা দলের সর্বোচ্চ স্কোর কানাডার ৫ উইকেটে ১৯০। সেটি অবশ্য বিশ্বকাপের অঞ্চলভিত্তিক কোয়ালিফায়ারের ম্যাচে বাহামাসের বিপক্ষে। এখানে হওয়া ১৭ ম্যাচের ১০টিতে অবশ্য আগে ব্যাট করা দল জিতেছে। বাকি ৭টিতে রান তাড়াকারীরা। অ্যান্টিগার উইকেট স্পিনারদের তুলনায় পেসারদের বেশি সহায়তা করে। পাওয়া যায় প্রাকৃতিক সুইং এবং অনিয়ন্ত্রিত বাউন্স। ১৭ টি-টোয়েন্টিতে ১২০ উইকেট নিয়েছেন পেসাররা। উল্টো দিকে স্পিনারদের শিকার ৭৬ উইকেট।

অ্যান্টিগার সঙ্গে বাংলাদেশের স্মৃতি বেশ পুরনো। ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচ দিয়ে এ মাঠে বাংলাদেশের খেলা শুরু। ২০০৭ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ম্যাচে ১০ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। ওই আসরেই নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৯ উইকেটে হার মানে বাংলাদেশ।

অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্টও খেলে বাংলাদেশ। ইনিংস ও ২১৯ রানে হার ছিল ২০১৮ সালে প্রথম টেস্টের ফল। ২০২২ সালের টেস্টটিতেও ৭ উইকেটের হার সইতে হয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও লিটন দাসকে। এই সব কটি ম্যাচে ছিলেন সাকিব আল হাসান। যেসব অভিজ্ঞতা থেকে দলের জুনিয়রদের সাহায্যে আসতে পারবেন তিনি।

বাংলাদেশের তুমুল ফর্মে থাকা পেস লাইনআপের জন্যও আশীর্বাদ হিসেবে দেখা যেতে পারে অ্যান্টিগার উইকেট। তাই উল্টো পাশে থাকা অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বাঘা বাঘা পেসারের সঙ্গে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা কতখানি রয়েছে মোস্তাফিজ-তাসকিন-তানজিম-শরিফুলদের, সেই পরীক্ষা হয়ে যাবে এ দুই ম্যাচে। আরেকটি শঙ্কার বিষয়, দুর্দশা কাটিয়ে স্বরূপে ফিরতে না পারলে নামিবিয়া কিংবা ওমানের মতো লজ্জা সঙ্গী করে বাড়ির পথ ধরতে হতে পারে শান্ত-লিটন-তানজিদদের।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত