বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি, বেড়েছে দুর্ভোগ

আপডেট : ২১ জুন ২০২৪, ১০:১০ পিএম

সিলেটে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং উজানের ঢল কমে আসায় আজ শুক্রবার সুরমা, কুশিয়ারাসহ সিলেটের নদ-নদীগুলোর পানির উচ্চতা কিছুটা কমেছে। তবে এখনও অনেক স্থানে নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। সিলেট নগরীর প্লাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ এলাকার পানি নেমে গেলেও দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। ময়লা-আবর্জনা আর নোংরা পানিতে একাকার হওয়া বাসা-বাড়ি, দোকানপাট পরিষ্কারে হিমশিম খাচ্ছেন মানুষ। এছাড়া নগরীর শাহজালাল উপশহর, মেন্দিবাগ, ছড়ারপাড়, যতরপুর, শেখঘাট, তালতলা, জামতলাসহ অনেক এলাকার বাসা-বাড়িতে এখনও বন্যার পানি রয়েছে।

এদিকে সিলেট সদর উপজেলা এবং জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলার বন্যাকবলিতরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে রয়েছেন। সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেছেন বন্যাকবলিতরা। অবশ্য সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান জানিয়েছেন, বন্যা দুর্গতদের কষ্ট লাঘবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিতরণের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণও বরাদ্দ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২১ জুন) বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে জেলা প্রশাসন ১৫০০ প্যাকেট রান্না করা খাবারসহ অন্যান্য ত্রাণ বিতরণ করেছে।

কয়েকদিনের একটানা বর্ষণের পর শুক্রবার দিনভর সিলেটের আকাশ ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল। বৃষ্টি না হওয়ায় জনমনে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। সিলেট আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সজীব হোসাইন জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটের কোথায়ও বৃষ্টি হয়নি। ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টিপাত কমেছে। এ অবস্থায় সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাটে বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, গত বৃহস্পতিবার সেখানে পানি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। আর কুশিয়ারা নদীর পানি জকিগঞ্জের আমলশীদে শুক্রবার বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল, গত বৃহস্পতিবার ছিল বিপৎসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ওপরে।

সিলেট জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে, সিলেট জেলায় বর্তমানে সাড়ে ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। বাড়িঘরে পানি উঠে পড়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। জেলার ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বন্যার্তদের সরকারি উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৫৫২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত। আর সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় বন্যাকবলিত রয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ।

সিলেটে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সিলেটবাসীকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সকালে সিলেট নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় সুরমা নদী পরিদর্শনকালে একথা জানান পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামীতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকাকে কীভাবে রক্ষা করা যায় সে লক্ষ্যে সরকার পদক্ষেপ নেবে। ইতিমধ্যে সুরমা নদীর প্রায় ১২ কিলোমিটার খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বন্যার পানি কমে গেলে বাকী খননকাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ২০টি নদীতে প্রয়োজনীয় খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। খনন সম্পন্ন হলে নদীর পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে বন্যার ভয়াবহতা কমে আসবে। 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত