ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে কমলা সংকেত জারি করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশরী ইমন কল্যাণ দাস স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উক্ত নদীসমূহের পানি সমতল আগামী তিনদিন বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসময়ে তিস্তা নদী বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলি প্লাবিত হতে পারে।
পাউবো জানায়, নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি শুক্রবার বিকাল ৩টায় বিপদসীমার (৫২ দশমিক ১৫) শূন্য দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার (৫১ দশমিক ৮৫) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে গজলডোবা তিস্তা ব্যারেজ থেকে ১৪০৯ কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিস্তার মেখলিগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ সীমানা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে ফ্লাড কন্ট্রোল রুম জলপাইগুড়ি সেচ দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ পেয়েছে।
এদিকে একইদিন দুধকুমার নদীর পানি কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপদসীমার (২৯ দশমিক ৬০) ১ দশমিক ৪৭ সেন্টেমিটার ও কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পয়েন্টে বহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার(২৬ দশমিক ০৬) ১ দশমিক ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একইভাবে ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম সদর পয়েন্টে বিপদসীমার (২৬ দশমিক ০৫) ১ দশমিক ৯১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া পঞ্চগড় ও বগুড়া পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। পঞ্চগড়ের বিপদসীমার (৭০ দশমিক ৩০) ৫ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার ও বগুড়ার পয়েন্টে বিপদসীমার (১৫ দশমিক ৮৫) ৪ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
ঠাকুরগাঁওয়ে টাঙ্গন নদীর পানি বিপদসীমার (৪৯ দশমিক ৯৫) ৩ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দিনাজপুরের পুনর্ভবা নদীর পানি বিপদসীমার (৩৩ দশমিক ০৫) ৫ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উক্ত নদ-নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ২৪ ঘণ্টা স্থিতিশীল থাকতে পারে ও পরবর্তী চারদিন বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
