বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পাকিস্তানে কোরআন অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় পর্যটককে পুড়িয়ে হত্যা

  • বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোয়াত জেলার জনপ্রিয় পর্যটন শহর মাদিয়ানে এ ঘটনা ঘটে
  • পুলিশ হেফাজত থেকে ইসমাঈলকে ছিনিয়ে পিটিয়ে-পুড়িয়ে মারে বিক্ষুব্ধ জনগণ 
আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ০৪:২৫ পিএম

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনকে অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় এক পর্যটককে পিটিয়ে এং পুড়িয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। হত্যার পর তার দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোয়াত জেলার জনপ্রিয় পর্যটন শহর মাদিয়ানে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

সোয়াতের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত পর্যটক পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোট জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তার নাম মুহম্মদ ইসমাঈল (৩৬) বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাদিয়ানের কিছু লোক অভিযোগ করেছিল যে ইসমাইল শহরের একটি হোটেলে থাকার সময় পবিত্র কোরআন অবমাননা করেছিল। তবে সে ঠিক কি করেছিল তা বিস্তারিত জানা যায়নি।

কোরআন অবমাননার অভিযোগে পুলিশ ইসমাঈলকে হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে এসে হেফাজতে রাখে।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল জাজিরাকে বলেন, "পুলিশের একটি দল ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করতে মাদিয়ানের প্রধান বাজারে পৌঁছেছিল এবং তাকে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জনতা তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করার দাবি করেছিল।"

কর্মকর্তারা জানান, আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শতাধিক মানুষ জড়ো হন মাদিয়ানের ওই পুলিশ স্টেশনে। তারা ওই স্টেশন ঘেরাও করে ইসমাঈলকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করেন। পুলিশ তাতে অস্বীকৃতি জানালে বিক্ষুব্ধ ওই জনতা থানায় আক্রমন করেন।

এ সময় অভিযুক্ত জনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময় হয়, এতে আট পুলিশ আহত হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ দলটি পুলিশের হেফাজত থেকে ইসমাঈলকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে এনে পেটাতে থাকেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ইসমাঈলের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন তারা।

সোয়াত পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাহিদ উল্লাহ খান বলেন, বিক্ষুব্ধ জনগণের দলটি পুলিশ স্টেশন ও পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে ভয়াবহ এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়েছে কিনা বা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ কর্মকর্তারা।

খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রাদেশি পুলিশ প্রধানকে একটি তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

১৯৮৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ধর্ম অবমাননা (ব্লাসফেমি) আইনে পাকিস্তানজুড়ে অভিযুক্ত হয়েছেন ২ হাজারেরও বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে ৮৮ জন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালে পাঞ্জাবের খানেওয়াল শহরে এক ব্যক্তিকে এই অভিযোগে পাথর ছুড়ে হত্যা করেছিল উত্তেজিত জনতা।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত