মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে আজ। এই নির্বাচনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ৪ জুলাই আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাজ্যে। সেখানেও রয়েছে একাধিক প্রার্থী। এছাড়া আগামী ৫ নভেম্বর বিশ্বের পরাক্রমশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাইডেন-ট্রাম্প ছাড়াও সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আরও প্রার্থী। আবার ভোট পড়ার হারও কখনও শতভাগ হয় না।
কিন্তু বিশ্বে এমন দেশ রয়েছে যেখানে প্রার্থী থাকেন মাত্র একজন। আর ভোট পড়ার হার ১০০ শতাংশ। সেই দেশে একটি বিষয় প্রচলিত আছে যে, ভোটের দিন সেই দেশে কেউ মারাও যায় না; আবার কেউ অসুস্থও হয় না।
তবে এমন বিরল নির্বাচন হয় চীনের পূর্ব প্রান্তে জাপান সাগরের কোল ঘেঁষে ছোট্ট দেশ উত্তর কোরিয়ায়। রাজনৈতিক ভাবে যা প্রায় সারা বিশ্বের থেকে বিচ্ছিন্ন। কারণ, এই দেশে রয়েছে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। যা বিশ্বে বিরল। উত্তর কোরিয়ার প্রশাসক তথা সর্বময় কর্তা কিম জং উন। বংশপরম্পরায় তার পরিবার দেশ শাসন করছে। তার রাজত্বে তার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশের মানুষ কিমের কথাতেই ওঠেন এবং বসেন।
কিমের দেশে কেউ কখনও সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে, প্রচলিত ব্যবস্থার বিপরীতে চলতে চাইলে কঠোর পদক্ষেপ করে প্রশাসন। ক্ষমতার জোরে দমিয়ে দেওয়া হয় জনগণের কণ্ঠ। সংবাদমাধ্যমও সরকার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
তবে তারপরও প্রতি চার থেকে পাঁচ বছর অন্তর উত্তর কোরিয়াতে ভোট হয়। দেশের আইনসভা সুপ্রিম পিপল্স অ্যাসেম্বলি (এসপিএ)-এর নিয়ন্ত্রক সেই ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হন। দেশের মানুষ প্রতি বার নির্বাচনের দিন লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোট দেন। উত্তর কোরিয়ার জাতীয় আইনসভা এসপিএ-র নির্বাচন হয় প্রতি চার বছর অন্তর। স্থানীয় স্তরের নির্বাচনগুলো হয় পাঁচ বছর পর পর। প্রতি ক্ষেত্রেই ভোট হয় ব্যালট পেপারে।
কিমের দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো ভোটের হার। প্রতি বার প্রত্যেক নির্বাচনে ভোটারদের প্রায় ১০০ শতাংশ উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কারণ, উত্তর কোরিয়ার সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে ভোট দেওয়ার জন্য নির্দেশ রয়েছে। কেউ ভোট না দিতে চাইলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হয়ে থাকে। তাই ভোট না দেওয়ার ঝুঁকি নেন না কেউ।
উত্তর কোরিয়ার ভোটে কোনো গোপনীয়তা নেই। একটি করে ব্যালট পেপার প্রতি ভোটারকে দেওয়া হয়। সেখানে এক জন প্রার্থীরই নাম থাকে। তাকেই সকলকে ভোট দিতে হয়। তিনিই নির্বাচিত হন। খাতায়কলমে নিয়ম অনুযায়ী, ভোটারেরা চাইলে ব্যালটে থাকা ওই একটি নামের পাশে কাটা চিহ্ন দিয়ে প্রার্থীর প্রতি নিজের অসম্মতি জানাতে পারেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা হয় না। ব্যালটে কেউ কলম ছোঁয়ান না। প্রত্যেকেই প্রকাশ্যে ব্যালটটি গ্রহণ করেন এবং নির্দিষ্ট ভোটবাক্সে ফেলে দেন।
কেউ এই ভোটপ্রক্রিয়ার অন্যথা করলে বা গোপনে ভোট দিতে চাইলে আলাদা করে তাকে চিহ্নিত করে রাখেন প্রশাসনিক কর্মীরা। পরে তাকে শাস্তিও পেতে হয়। উত্তর কোরিয়ায় কিন্তু একাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টির চেয়ারপার্সন কিম স্বয়ং। সেটাই দেশের বৃহত্তম পার্টি। তবে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং চন্ডোয়িস্ট চঙ্গু পার্টিও রয়েছে।
খাতায়কলমে তিনটি আলাদা দল হলেও বাস্তবে এই তিন দল আসলে একই। একসঙ্গে এদের জোটের নাম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফর রিইউনিফিকেশন অফ কোরিয়া। ভোটের সময়ে ৮৭.৫ শতাংশ কেন্দ্রে ওয়ার্কার্স পার্টি, ৭.৪ শতাংশ কেন্দ্রে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং ৩.২ শতাংশ কেন্দ্রে চন্ডোয়িস্ট চঙ্গু পার্টি প্রার্থী দেয়।
উত্তর কোরিয়ায় নির্বাচন একটি উৎসবের মতো। ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটকেন্দ্রের বাইরে বাধ্যতামূলক ভাবে ভোটারদের উৎসব পালন করতে হয়। সরকারের জয়ধ্বনি দিয়ে নাচতে হয় ভোটারদের। উত্তর কোরিয়ার যে কোনো অনুষ্ঠান কিংবা সরকারি কর্মসূচিতেই এই জয়ধ্বনি বাধ্যতামূলক। সরকারের প্রশংসা করে তার সাফল্যের খুশিতে আনন্দ প্রকাশ করতে হয় দেশের মানুষকে। এটাই সেখানকার নিয়ম।
যৌনমিলন ছাড়াই ১৪ বাচ্চার জন্ম দিল 'রোনালদো'