সাদিক অ্যাগ্রোর খামারে নিষিদ্ধ ব্রাহমা গরু

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৪, ০৭:২৫ পিএম

সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় অবস্থিত সাদিক অ্যাগ্রোর খামারে পাওয়া গেছে আমদানি নিষিদ্ধ ব্রাহমা জাতের গরুর বাছুর। আজ সোমবার (১ জুলাই) বিকালে ওই খামারে অভিযান চালিয়ে বাছুরগুলো জব্দ করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মূল সড়ক থেকে খাল দখল করে নির্মাণ করা রাস্তা দিয়ে অনেকটা দূরে বানানো খামারে গোপনেই পালন হচ্ছিল এসব গরু।

দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তিনটি ব্রাহমা জাতের গাভী, ৭ থেকে ১০ মাস বয়সী ৭টি ব্রাহমা জাতের গরুর বাছুর পাওয়া যায়। এছাড়াও পাওয়া যায় আলোচিত সেই ১৫ লাখ টাকার ছাগলটিও। এর আগে দুপুরে সাভারে কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে অভিযান চালায় দুদক।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। তিনিন বলেন, ‘আমরা সাদিক অ্যাগ্রোর সাভারের খামারে অভিযান চালিয়ে তিনটি ব্রাহমা জাতের গাভী ও সাতটি ব্রাহমা জাতের বাছুর পেয়েছি। এসময় কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখা একটি ছোট কক্ষে আলোচিত সেই ১৫ লাখ টাকা দামের সেই ছাগলটিও পাওয়া গেছে। এখান থেকে আমার বেশকিছু খাতা ও নথিপত্র জব্দ করেছি। যেহেতু ব্রাহমা জাতের গরু আমদানি ও উৎপাদন নিষিদ্ধ সেহেতু এই গরুগুলোর ব্যাপারে আমাদের কর্তৃপক্ষকে জানাবো এবং সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরেজমিনে সাদিক অ্যাগ্রোর পুরো খামারটি ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ১০টি উট ও দুটি ঘোড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির দুই শাতধিক গরু রয়েছে। এছাড়াও খামারে রয়েছে কয়েক হাজার হাসঁ, মুরগি, কবুতরসহ বেশ কিছু পালন নিষিদ্ধ হাঁস। এছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় সাদিক অ্যাগ্রোতে উচ্ছেদের পর সেখানকার কিছু ভাঙা শেড, মিষ্টি তৈরির সরঞ্জামসহ বেশকিছু এসি ও সাইনবোডের্র দেখতে পাওয়া যায়।

সাদিক অ্যাগ্রোর খামারটির দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার জাহিদ খান বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। এখানে মুলত দুধ উৎপাদন করে প্রতিদিন ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে খামারটি গাভী ও বাছুর মিলিয়ে দুই শতাধিক গরু, ১২টি উট ও দুটি ঘোড়াসহ বেশকিছু হাস-মুরগি রয়েছে। এগুলোর দেখাশুনার জন্য আমিসহ প্রায় ৩৫ জন কর্মী কাজ করছি। আগে এখানে কোনো নিরাপত্তাকর্মী না থাকলেও আজ সকাল থেকে সিকিউরিটি গার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক একমাস আগে একবার এসেছিলেন। এবার কোরবানির ঈদের বেতনও আমাকে দেওয়া হয়নি।

সাদিক অ্যাগ্রোর খামারে কর্মরত একাধিক কর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে অনেক আগে থেকে নিষিদ্ধ ব্রাহমা জাতের গুরু পালন করা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো সুযোগ বুঝে বিক্রয় করে দেওয়া হয়। তবে এসব বিষয়ে তাদের কথা বলতে নিষেধ করা আছে।

এর আগে দুপুরে সাভার কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেখানে দুদক কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. মো. মনিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং প্রায় তিন বছর আগে আমদানি নিষিদ্ধ ব্রাহমা জাতের ১৮টি গরুর তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত