নতুন কর্মসূচি দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন আন্দোলনকারীরা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪, ০৭:১৮ পিএম

সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা পুনর্বহাল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের প্রতিবাদ এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র বহালের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৩ জুলাই) পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সমবেত হন আন্দোলনকারীরা। পরে তারা দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়েন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ মোড় ছেড়ে যান তারা।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহবাগ মোড় ছেড়ে যাওয়ার সময় আগামীকালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ বলেন, আগামীকাল হাইকোর্টের রায় রয়েছে। আমরা মনে করি সেটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে যাবে। আগামীকাল বেলা ১১টা থেকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে আমরা আবারও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠ ছেড়ে যাব না।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের মতো বুধবার বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে সে সময় সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর সড়ক, মতিঝিলের দিকে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের অনেকেই হেঁটে গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা হয়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আশিক বলেন, ৫৬ শতাংশ কোটা থাকলে মেধাবীদের রিকশা চালানো ছাড়া উপায় থাকবে না। সরকার তাহলে আমাদের রিকশা কিনে দিক, নয়তো কোটা সংস্কার করুক। কোটা সংস্কার না করে আমরা হলে ফিরব না।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান পরিচয় দেওয়া ফারাবি রহমান শ্রাবণ বলেন, কোটা সাধারণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ওপর জুলুম। এটি অযৌক্তিক। মুক্তিযোদ্ধারা এই বৈষম্য চায়নি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানরা এগিয়ে আসুন। বিবেকের উত্তর শুনুন।

অবস্থানকালে শিক্ষার্থীরা ‘সংবিধানের/মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুর আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘কোটা প্রথা, বাতিল চাই বাতিল চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

শাহবাগ মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও যানজট নিয়ে নিয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাজিরুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, যানজট তেমন হয়নি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আগে থেকে ডাইভারশন দিয়ে রাখা ছিল। আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় বাসগুলো যাওয়ার রাস্তা তৈরি করেছি, কাঁটাবন মোড় থেকে মৎস্য ভবনগামী রোডে অল্প জ্যাম ছিল। তবে সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত