ম্যাখোঁ কি আর ফ্রান্সের ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৭ পিএম

প্রথম দফায় কট্টর ডানপন্থিদের কাছে হারের পর ফ্রান্সের জাতীয় নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলছে আজ। প্রথম দফায় হারের পর এবারও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। তাহলে কি আর নতুন করে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন তিনি?

প্রথম দফার সফলতা ধরে রেখে সরকার গঠনের বিষয়ে জোর আশাবাদী কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন)। তবে দলটি শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না—এমন সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। আরএন যদি পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তা হবে ফ্রান্সের ইতিহাসে বড় এক বাঁকবদল। কারণ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কট্টর ডানপন্থী কোনো দল দেশটিতে ক্ষমতায় বসতে পারেনি। আরএনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইউরোপজুড়ে জনতুষ্টিবাদী দলগুলোর জয়ের পাল্লা আরও ভারী করবে।

এদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ম্যাখোঁ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারলেও গ্যাব্রিয়েল আতালের প্রধানমন্ত্রীত্ব হয়তো টিকবে না। স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুলাই) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর বুথফেরত জরিপ পাওয়া যাবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, যদি ম্যাখোঁর মধ্যপন্থী জোট প্রত্যাশা অনুযায়ী তৃতীয় হয়, তবে প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার অবস্থান নিরাপদ থাকবে। দুই বছর আগে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন ম্যাখোঁ এবং বলেছিলেন তিনি পদত্যাগ করতে চান না। তাই তিনি সম্ভবত ২০২৭ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রধান থাকবেন এবং সম্ভবত প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখবেন।

তবে সাত মাস আগে তিনি গ্যাব্রিয়েল আতালকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তা সম্পূর্নভাবেই অন্য বিষয়। আজকের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর তার ভাগ্য নির্ধারিত হবে। আতাল হলেন ফ্রান্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ এবং এনসেম্বল জোটের পরিচিত মুখ। কিন্তু মনে হয় না তার দল পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারবে। তাই প্রতিপক্ষরা তাকে কখনোই ক্ষমতায় রাখবে না। 

২০০২ সাল থেকে প্রেসিডেন্টের দল থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে আসছে। কারণ সংসদীয় ভোট সবসময় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ওপর নির্ভর করে অনুসরণ করা হয়। তবে ম্যাখোঁ প্রায় নিশ্চিতভাবেই এই প্রক্রিয়াটিকে শেষ করে দিয়েছেন। আর ২০২৭ সালের আগ পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া আর ফিরে আসবে না। 

তবে ফলাফল যাই হোক না কেন প্যারিস এবং অন্যান্য ফরাসি শহরে সহিংসতার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ এবং রোববার সন্ধ্যার পর জাতীয় পরিষদের বাইরে একটি পরিকল্পিত বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা এড়াতে ৩০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গত রোববার (৩০ জুন) ফ্রান্সে প্রথম ধাপের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে মেরিন লে পেনের কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন)। প্রায় ২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বামপন্থি দলগুলোর জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট। অন্যদিকে, ২০.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর দল। ফ্রান্সের ৫৭৭ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপেই সবকিছু নিশ্চিত করে দেয় না। তথাপি আরএন অপেক্ষাকৃত বেশি আসন পেয়েছে, যা দলটিকে ক্ষমতায় আনার সম্ভাবনাকে প্রকট করেছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত