সম্প্রতি দেশের বেসরকারি গণমাধ্যম চ্যানেল ২৪ এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, গত ১২ বছর ধরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) এবং অন্যান্য নন-ক্যাডার পরীক্ষা সম্পর্কে কোনও মহল থেকে কখনোই কোনও ধরনের অভিযোগ বা অনুযোগ ছিল না। তাই ওই সময়ের সব পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
সোমবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বিপিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ‘চ্যানেল টোয়েন্টিফোর টিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদন বিষয়ে পিএসসির বক্তব্য’ শিরোনামের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি চ্যানেল ২৪-এ এই সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে এতে করে বিপিএসসির ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, গত ১২ বছরে বিপিএসসিতে অনুষ্ঠিত বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পরীক্ষা সম্পর্কে কোনো মহল থেকে কখনোই কোনো ধরনের অভিযোগ বা অনুযোগ ছিল না, বিধায় এটি প্রমাণিত যে, ওই সব পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময়ে অনুষ্ঠিত বিসিএস ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে নতুন করে কোনোরূপ অভিযোগ উত্থাপনের অবকাশ নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই শুক্রবার অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ের নন-ক্যাডার ‘উপসহকারী প্রকৌশলী’ পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ওইদিন পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা আগে প্রতিবেদকের (চ্যানেল টোয়েন্টিফোর টিভির) হোয়াটসঅ্যাপে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রতিটি বিসিএস ক্যাডার পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬ সেট প্রশ্নপত্র এবং নন-ক্যাডার পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪ সেট প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়। কোন সেটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্ধারণ করতে পরীক্ষা শুরুর ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট আগে। সেটাও লটারির মাধ্যমে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে, ‘কমিশনের আওতাভুক্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, প্রশ্নপত্র সমীক্ষণ ও মুদ্রণ সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে করা হয় এবং তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়। এসব কারণে পরীক্ষা শুরুর পূর্বে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে।’
বিপিএসসির নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম সব মহলে প্রশংসিত উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিপিএসসির কার্যক্রম ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজসহ জনমনে সুদৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। সেই আস্থা ও বিশ্বাস সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে যথাসময়ে অভিযোগ না হওয়া সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বা প্রতারণা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রমের সাথে জড়িত প্রমাণ হয়, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্টের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
