কোটা ইস্যু আর বাড়তে দিতে চায় না সরকার

পুলিশি পদক্ষেপ, আইনি পথ নাকি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৪, ১১:১৭ এএম

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন আর বাড়তে দিতে চায় না সরকার। এই আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট দুর্ভোগের কবল থেকে ঢাকাবাসীকে মুক্তি দিতে আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়ে অনড় হয়ে উঠেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। সরকারের মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে অনড় অবস্থানের সেই ইঙ্গিত।

সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের এসব নেতা বলেছেন, পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি পথ এই দুটির যেটি সুবিধাজনক হবে তা বাস্তবায়ন করে আন্দোলন থামাতে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। অবশ্য তার আগে আন্দোলন থামাতে আজ রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ অনুরোধও রাখবেন ছাত্রদের প্রতি। এই তিন পদক্ষেপের যেটিতে আন্দোলন সামাল দেওয়া যাবে সেটিই অনুসরণ করবে সরকার। মূল লক্ষ্য হলো আগামীকাল সোমবারের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন থামাবে সরকার। 

সরকারের একাধিক সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, চীন সফরের বিস্তারিত তুলে ধরতে আজ গণভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। বিকেলের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজই রাস্তা ছেড়ে ঘরে ফেরার অনুরোধ জানাবেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি। তিনি মনে করেন, সেই অনুরোধ নিশ্চয়ই রাখবেন কোটা আন্দোলনে সম্পৃক্তরা।

জানা গেছে, আজকের সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন ছেড়ে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি তাদের দাবির ব্যাপারে তার সরকারের অবস্থানও তুলে ধরবেন টানা চার বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় কোটা সংস্কারের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তারিত অবহিতও করা হবে। পাশাপাশি চলমান আন্দোলন যে অযৌক্তিক সেটিও উল্লেখ করা হবে। আর এর মধ্য দিয়ে আজই আন্দোলন ছেড়ে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার প্রত্যাশা করছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

এ প্রসঙ্গে তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আন্দোলনকারীরা না বুঝেই আন্দোলন করছে। কারণ, ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাহী আদেশে পরিপত্র জারি করে কোটা বাতিল করেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা পদক্ষেপ নিয়ে আদালতে নিয়ে যায় বিষয়টি। যা জটিলতার সৃষ্টি করেছে। এখন আদালত থেকে বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকারের আপাতত কিছু করার নেই।

সরকার ও দলের একাধিক সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর আন্দোলন অব্যাহত রাখা হলে তা কঠোর হাতে মোকাবিলা করা ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না। শিক্ষার্থীরা আজ রাস্তা না ছাড়লে আগামীকাল সোমবার বিকল্প পথে যেতে হবে সরকারকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজপথ মুক্ত করতে অ্যাকশনেও যেতে পারে। এছাড়া, ছাত্রদের আন্দোলন থেকে সরাতে আইনি পথেও যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। রাজপথের আন্দোলন থামাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অ্যাকশন ও মামলা এই দুই পথে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মোদ্দা কথা হলো রাজপথ মুক্ত করবেই সরকার।

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোটা আন্দোলনে সরকারবিরোধী শক্তি ভর করতে শুরু করেছে। তাদের সম্পৃক্ততার ফলে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেও সোমবার থেকে আন্দোলন বেশিদূর আগানোর সুযোগ দিতে চায় না সরকার। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আদালতের কাছ থেকে সমাধান আসার পর সরকার বিষয়টি আরও যৌক্তিকভাবে দেখবে। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে যারা আন্দোলন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

কোটা ইস্যুতে সর্বোচ্চ আদালতে চলমান আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সরকার কোটা সংস্কারের উদ্যোগ নেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, বিচারাধীন থাকায় সরকার এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। দিলে তা সংবিধানবিরোধী হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ষড়যন্ত্রকারীরা ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করছে এমন আশঙ্কার কথাও জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু আদালতের প্রক্রিয়ায় ঢুকে গেছে। তাই এটি শেষ করতে হবে। প্রক্রিয়া শেষের পরে আপনি কোনো ঘোষণা বা উদ্যোগ নিতে পারেন। এটাই সংবিধানসম্মত। আমরা সেখানেই আছি।’

আর কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমি মনে করি তাদের (ছাত্রদের) একটু অপেক্ষা করা উচিত, আন্দোলন থামানো উচিত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত