পারিবারিক সুসম্পর্ক থাকলে কিছুটা কমে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি। বয়স হলে অনেকের হতে পারে ভুলো মন, কারও নাম মনে পড়ছে না, তো চাবি কোথায় রেখেছেন তা আসছে না মনে। বয়স হলে এসব হবেই। তবে এমন স্মৃতিভ্রম প্রকট হলে তা হতে পারে বিপজ্জনক আর এটাকেই বলা হয়ে থাকে ডিমেনশিয়া। কিন্তু বিষয়টা এত সহজ নয়। স্মৃতিভ্রংশ, বিভ্রম আর ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন এসব কিছু উপসর্গ এক ছাতার তলে হলে সেটির নাম ডিমেনশিয়া। আর একটু বুঝিয়ে যদি বলি, সামগ্রিক বা আংশিক স্মৃতিলোপ, কার্যকারণ সম্পর্ক বুঝতে অসুবিধা আর সেই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অক্ষমতা, সব মিলে যে সমস্যা, মিলিতভাবে সেটিকেই ডিমেনশিয়া বলা যায়। সবচেয়ে বহুল আর দুরারোগ্য ডিমেনশিয়ার উদাহরণ হলো, আলঝেইমার্স। বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন ডিমেনশিয়া যে বার্ধক্যের স্বাভাবিক পরিণতি তা নয়, সাধারণত ৬৫ ঊর্ধ্ব হলে এটির ঝুঁকি বাড়ে, তবে ৬৫ বছরের নিচে হলে যে এটি হবে না তা কিন্তু নয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি (৩৫ শতাংশ) অপুষ্টিতে ভোগে। ৪৯ শতাংশ শারীরিক কর্মকা- কম করেন। ৫৬ শতাংশ বেশি পরিমাণে লবণ খায় এবং তাদের ৭৬.৬ শতাংশ বেশিমাত্রায় তামাক সেবন করে। এই গবেষণার ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, ২০২৫ সালে ডিমেনশিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৩ লাখ ৭০ হাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণের বেশি হবে।
কারণ : ডিমেনশিয়ার কারণ কী তা কিন্তু অজানা। তবে ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি প্রকাশনায় এটির ১২টি ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। গবেষণা বলে, এসব ঝুঁকি থেকে দূরে থাকলে বা সতর্ক হলে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে এটিকে ঠেকানো যায় বা স্থগিত করা যায়। এসব ঝুঁকি হলো শিক্ষার অভাব, উচ্চ রক্তচাপ, শ্রবণের সমস্যা, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, মানসিক অবসাদ, কায়িক শ্রমের অভাব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত মদ্যপান, মস্তিষ্কে আঘাত আর বায়ুদূষণ।
লক্ষণ : ডিমেনশিয়া মানে শুধু স্মৃতিভ্রংশ নয়। নানাভাবে হয় এটির প্রকাশ। যেমন আচরণে পরিবর্তন, বিভ্রান্তি আর দিকভ্রম, যোগাযোগে সমস্যা, ভারসাম্য সমস্যা ইত্যাদি। স্নায়ুবিশেষজ্ঞ অনেকে বলেন, দিবা নিদ্রা বা ভাতঘুম বাড়াতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি। ডিমেনশিয়ার অভিজ্ঞতা ব্যক্তিবিশেষে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
প্রতিরোধ : গবেষণা বলে পারিবারিক সুসম্পর্ক থাকলে আর কর্মক্ষেত্রে শান্তি পেলে কিছুটা কমে এই রোগের ঝুঁকি। আগে সুস্থ জীবনযাপন আর সঠিক খাদ্যাভ্যাস হলো এটিকে ঠেকানোর বড় উপায়। আজকাল বলা হচ্ছে, ডিমেনশিয়ার মতো অসুস্থ ঘরোয়া কিছু কাজ করলে কমে ঝুঁকি। এমন সব কাজ করলে স্ট্রেস কমে। নিঃসৃত হয় এন্ডরফিন হরমোন। বাগানের কাজ করলে চাপ কমে। মন সতেজ হয়। রান্না সৃজনশীল কাজ। এটিকে অনেকে কম গুরুত্ব দেয়, কিন্তু রান্না করতেও মগজের চর্চা হয়। তাই আমাদের সচেতন থাকলে ভালো। আর উপসর্গ দেখে শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রাখলে ভালো।
