লাফার্জহোলসিমের মুনাফা কমেছে ৩৩ শতাংশ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫৩ এএম

দেশের অর্থনৈতিক সংকটে চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে সিমেন্ট খাত। মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধি, রিজার্ভ-সংকটের পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের গতি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে সিমেন্টশিল্পে। এতে করে সিমেন্টের বিক্রি কমে গেছে। এর প্রভাবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের নিট মুনাফা কমেছে ৩৩ শতাংশ। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কোম্পানিটির সুদব্যয় বেড়েছে। টাকার অবমূল্যায়নেও নিট মুনাফা কমাতে ভূমিকা রাখছে।

গতকাল লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ চলতি প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের উন্নয়নের ধীরগতির কারণে চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির বিক্রি কমে গেছে। আর ডলারসংকট ও সুদব্যয় বাড়ায় উৎপাদনব্যয় বেড়ে গিয়ে নিট মুনাফা কমে গেছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানিটি সিমেন্ট ও অ্যাগ্রিগেটস বিক্রি থেকে আয় করেছে ১ হাজার ৪৪১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি বছর উৎপাদনব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। চলতি প্রথমার্ধে লাফার্জহোলসিমের উৎপাদনব্যয় হয় বিক্রির ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

উৎপাদনব্যয় সমন্বয়ের পর চলতি প্রথমার্ধে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪৬০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ। চলতি প্রথমার্ধে লাফার্জহোলসিমের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৪৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা।

চলতি বছর ঋণের সুদহার বৃদ্ধির পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে লাফার্জহোলসিমের আর্থিক ব্যয় ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। এ সময় সুদ বাবদ ব্যয় ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে কোম্পানির আর্থিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি প্রথমার্ধে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৪৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩২ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম।

মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে বছরের বাকি সময়টাও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ জানিয়েছে। অবশ্য এমন বিরূপ পরিস্থিতিতেও ভালো ফলাফল উপহার দেওয়ার ব্যাপারে কোম্পানি আশাবাদী।

এ বিষয়ে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ইকবাল চৌধুরীর বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি কিছুটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে নির্মাণ খাতে। এর ফলে প্রথম ছয় মাসে আমাদের কোম্পানির বিক্রিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। বিক্রির বিভিন্ন চ্যানেলগুলোর সম্প্রসারণ, অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা শক্তিশালী করা, ডিজিটালাইজেশন এবং জিওসাইকেলের মাধ্যমে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা প্রদান বিষয়ে আমাদের আলোকপাত অব্যাহত রয়েছে। আমরা আশা করছি, বছরের বাকি সময়টায় ব্যয়সংকোচন এবং নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হব।’

মূলত চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনব্যয় ও আর্থিক খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাব প্রথমার্ধের নিট মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিমের বিক্রি কমেছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময় অ্যাগ্রিগেটসের ব্যবসা বাড়লেও সিমেন্টের বিক্রি কমেছে। তবে এ সময় উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির উৎপাদনব্যয় হয়েছে বিক্রির ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

একদিকে বিক্রি কমে যাওয়া, অন্যদিকে উৎপাদনব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মোট আয় ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১৮৬ কোটি টাকায় নেমেছে। এ সময় পরিচালন মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২১৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও সুদহার বৃদ্ধির কারণে চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিমের আর্থিক খরচ চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। এ সময় আর্থিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৫২ লাখ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮ কোটি ৫ লাখ টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৫৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির নিট মুনাফা ছিল ১৭০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত