একসময় বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন সমানতালে। শিশুশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শিশুশিল্পী প্রার্থনা ফারদীন দীঘি চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে তেমন আলোচনায় আসতে পারেননি। মাঝখানে পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়িয়ে হয়েছেন সমালোচিত। নিজের কাজ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে দীঘির মুখোমুখি হয়েছিলেন আপেল মাহমুদ
শিশুশিল্পী নাকি নায়িকা কোনটা বিশেষভাবে দেখেন?
শিশুশিল্পী হিসেবে যে অর্জন বা মর্যাদা আমি পেয়ে গেছি তা তখন বুঝতে পারিনি, বড় হয়ে বুঝতে পেরেছি। এখন মনে হয় ঐ বয়সেই যদি এত কিছু অর্জন করতে পারি তাহলে এখন কনফিডেন্ট এমনিতেই বেশি থাকবে। আমি দুটোর মধ্যে কোনো একটাকে বিশেষ বলতে পারব না তবে শিশুশিল্পী দীঘির প্রতি একটা সফট কর্নার থাকবে।
বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারকে যদি আপনার বিপরীতে হিরো বা ভিলেন হিসেবে নিতে বলা হয় তাহলে কাকে কাস্ট করবেন?
হিরো হিসেবে তাসকিনকে। কারণ আমার মনে হয় হিরোর বেসিকে ও খুব পারফেক্ট। আর ভিলেনটা (হাসি) আসলে আমি ঠিক জানি না কাকে বলব। ভিলেনের মতো দেখতে আমি কাউকে এখনো পাইনি, তাই ভিলেন নিয়ে আমি খুব কনফিউজড।
শাবনূরের সঙ্গে আপনার অনেক কাজ হয়েছে। এখন সম্পর্কটা কেমন?
উনি আমার অনেক কাছের একজন মানুষ। আমি সবসময় ওয়েট করি উনি কখন আসবেন। শাবনূর আন্টি আসলে আমার মায়ের মতন। এখনো উনি যখন আমাকে ফোন করেন আমি উনাকে বলি, আপনার আমার পরে এ রকম মা-মেয়ের আর জুটি হয়নি। আমরা আসলে অনেক দুষ্টামি করি। তিনি এখনো আমাকে আগের মতোই আদর করেন। আমাদের আন্তরিকতাটা একদম কমেনি।
দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর সঙ্গে কাজ করেছেন, অভিজ্ঞতাটা কেমন?
যখন আমরা কাজ করেছি তখন কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো করে কাজ করেছি। তিনি আমাকে যথেষ্ট পরিমাণ আদর করতেন। আমার কোনো কমতি রাখেননি। যখন যেটা লাগবে আমার মাকে দাও, আমার মেয়েকে দাও এভাবে করে বলেছেন। আমি তার কোনো দোষ দেব না, একটা সময় এসে আশপাশের মানুষের ইনফ্লুয়েন্সে তিনি অনেক কথা বলতে পারেন। এখনো আমাদের দেখা হলে ভালো করেই আমরা কথা বলি।
উনি গুণী নির্মাতা কিন্তু আপনার সঙ্গে কাজটি সেভাবে হয়ে উঠল না কেন?
আসলে পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা একটু ব্যাকডেটেডভাবে চিন্তা করে ফেলেছি কিংবা ঝন্টু আঙ্কেল এখনো ওখান থেকে বের হতে পারেননি। ঝন্টু আঙ্কেল যেভাবে সিনেমা বানিয়ে সারা জীবন হিট করেছেন এখন একটা মানুষ ঐ জায়গা থেকে নিশ্চয়ই বের হবেন না। উনি হয়তো ভেবেছেন এভাবে কাজ করে পাঁচতলা বাড়ি করেছি তাই এভাবেই কাজ করব। দর্শক এখন অনেক চালাক, তারা নেটফ্লিক্স দেখে। এজন্যই হয়তো দর্শক ওটা নিতে পারেনি।
দীঘি আর জায়েদ খান যা বলেন তাই ভাইরাল..
হি ইজ মাই আঙ্কেল। হতেই পারে। তবে আমি প্যারালাল বলব না। কারও জন্য কেউ বালিশে ছবি আঁকেনি। আমি আসলে অতিরিক্ত সত্যি কথা বলে ভাইরাল হতে পারি। আমি যেহেতু খুবই অকপটে স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড কথা বলি, খুব বেশি মুখের ওপর কথা বলি সে কারণে ভাইরাল হতে পারি।
এই সোজাসাপ্টা মুখের ওপর কথা বলাটা কি এই জেনারেশনের অভ্যাস?
না, এটা আমার অভ্যাস। আমি এভাবে কথা বলি (হাসি)। আমি আসলে তেল দিতে পারি না। আমার ফ্যামিলি আমাকে যে শিক্ষা দিয়েছে আমি তাতে অনেক বোল্ড ও স্ট্রং পার্সোনালিটি ক্যারি করতে পছন্দ করি। আমি সবসময় দেখেছি আমার মা এ রকম ছিল। মা ওয়াজ এ ওয়ারিয়র।
