ক্রিকেটে ফিরছে ‘ট্যুর ফি’; জিম্বাবুয়েকে খরচ দেবে ইংল্যান্ড

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৪, ১১:২৬ এএম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটা সময় ‘ট্যুর ফি’ দেওয়ার প্রচলন ছিল। সফরে আসা দলকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করত আয়োজক দেশের বোর্ড। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যায়। অনেক বছর পর ট্যুর ফি দেওয়ার প্রথা ফিরিয়ে আনছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। আধুনিক যুগের প্রথম দল হিসেবে তারা জিম্বাবুয়েকে ট্যুর ফি দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড।

২২ বছর পর আগামী গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলতে যাবে জিম্বাবুয়ে। ইংল্যান্ডের মাঠে তারা কেবল চারটি টেস্ট খেলতে পেরেছে, ২০০০ সালে দুটি, ২০০৩ সালে দুটি। আগামী সফরে জিম্বাবুয়ে দলকে ট্যুর ফি দেবে ইসিবি। এই ধারাটা ফিরিয়ে আনার জন্য গত বছর ধরেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন রিচার্ড গুল্ড। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলির মধ্যে আয়ের যে অসমতা, সেটি কমিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ এই ট্যুর ফি।

স্কাই স্পোর্টসে একটি আলোচনায় রিচার্ড গুল্ড বলেছেন, ‘এটা অনেক বড় একটি দায়িত্ব…। আইসিসির রাজস্ব বন্টন পদ্ধতির কথা বলুন কিংবা দ্বিপাক্ষিক সিরিজের রাজস্ব ভাগাভাগি করা, সত্যি বলতে এসব যেভাবে হয়ে আসছে, তা পুরোনো হয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, আগামী বছর জিম্বাবুয়ে আসবে আমাদের এখানে সফরে। এমনিতে সফরকারী দলের আবাসন ও অন্যান্য কিছুর দায়িত্ব আয়োজক বোর্ডের থাকে। কিন্তু সফরে যাওয়ার জন্য কোনো ফি দেওয়া হয় না। আগামী বছর যখন আমরা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলব, সফরে আসার জন্য ওদেরকে ফি দেব।’

দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ক্ষেত্রে সফরে যাওয়ার বিমান ভাড়াসহ আনুসঙ্গিক নানা খরচ সফরকারী বোর্ডকে বহন করতে হয়। সফরে যাওয়ার পর অবশ্য বেশির ভাগ দায়িত্ব আয়োজক বোর্ডেরই। তারপরও সফরকারী দলের কিছু খরচ থাকেই। তাছাড়া টিভি সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, টিকিট বিক্রিসহ যে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সবটুকু আয় আয়োজক বোর্ডের কোষাগারেই যায়। সফরকারী দল শুধু খরচই করে থাকে। এতে বিপদে পড়ে আর্থিকভাবে দুর্বল বোর্ডগুলো।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ। গত জানুয়ারিতে ইএসপিএনক্রিকইনফোকে তিনি বলেছিলেন, ‘গত চার মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরে দল পাঠাতে ২০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এসব সিরিজ থেকে সবটুকু আর্থিক লাভ হয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। আমরা একটি ডলারও পাইনি। এটা কি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও টেকসই কিছু?’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত