ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অগ্নিপরীক্ষা কাল

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৪, ০৫:৪৪ পিএম

ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল রবিবার (২৮ জুলাই)। বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ২০১৩ সালে হুগো শ্যাভেজের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন। তবে এবার তার অবস্থা অনেকটায় নড়বড়ে। তাই এই নির্বাচন তার কাছে অনেকটা অগ্নিপরীক্ষার মতো। আগামীকাল ২৮ জুলাই সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের জন্মদিন। এ কারণে এই দিনটিকে নির্বাচনের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। 

বিবিসি ও আল জাজিরার খবরে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী হয়েছেন ১০ জন। মাদুরোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি, জনপ্রিয় প্রতিযোগীদের নিষিদ্ধ কিংবা সরাসরি ফলাফলে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ রয়েছে। তবে আশার কথা হলো- এবারে ভোটারদের মধ্যে বেশ অজনপ্রিয় মাদুরো। আর বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে বেশ কয়েকটি প্রধান বিরোধী দল একক প্রার্থী হিসেবে সাবেক কূটনীতিক এডমুন্ডো গনজালেজ উরুতিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে।

নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পোলে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন গনজালেজ উরুতিয়া। পোলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ১২.৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। অপরদিকে গনজালেজ ৫৯.৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।

বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলা অত্যন্ত দরিদ্র একটি দেশ। এর কারণ ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর ১১ বছরের শাসনের মধ্যে দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক সংকোচন দেখা গেছে। গত কয়েক বছরে সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও এখনো লাখ লাখ মানুষের পর্যাপ্ত খাবার ও ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। ভেনজুয়েলার জরিপ বলছে, নির্বাচনে যদি দেখা যায় মাদুরো ফের ক্ষমতায় থাকছেন, তবে বিপুল সংখ্যক ভেনেজুয়েলান দেশ ত্যাগ করবেন। আর জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক কমিশনের তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকে প্রায় ৭৭ লাখ মানুষ ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করেছেন।

মাদুরোকে স্বৈরশাসক আখ্যায়িত করে দেশটিতে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন বিরোধী দলের নবীনতম নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনেও মাদুরো স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব দেখা গেছে। শেষ দিনে তিনি শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোর একটিতে সমাবেশ করেছেন। তার সমাবেশের পুরোটাই সরাসরি সম্প্রচার করেছে রাষ্ট্রীয় টিভি। কিন্তু টিভিগুলো বিরোধীদের অনুষ্ঠানগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে। তারপরও এ নির্বাচনে মাদুরোর ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন নির্বাচনী পরীক্ষা ফেলে দিয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক এডমুন্ডো গনজালেজ উরুতিয়া ও বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোর শেষ প্রচারণায় অনেক কম সমর্থকের উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রচারণার জন্য যথেষ্ট তহবিলের অভাব ছাড়াও তাদের সমর্থক ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর সরকারি দমনপীড়নের কারণও এর জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। 

এদিকে মারিয়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মাদুরোর প্রতিদ্বন্দ্বী না হলেও প্রধান বিরোধী দলের প্রতি গণজোয়ার সৃষ্টির পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন। ৫৬ বছর বয়সী মারিয়া কয়েক মাসের মধ্য হাজার হাজার মানুষকে রাস্তায় নামিয়েছেন। আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মারিয়া মাচাদোর জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হবে। আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতে তিনি লাখ লাখ মানুষকে ব্যালট বাক্সে আনতে সক্ষম বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নির্বাচন ২৫ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটাতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত