ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

আড়াই হাজার ছাড়াল মৃত্যুসংখ্যা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৫৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

শুক্রবার (৩ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, আগের দিনের তুলনায় আরও ৩০০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় মোট প্রাণহানি বেড়ে ২ হাজার ৫৯৫ জনে পৌঁছেছে। জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। 

রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ। তবে এখনো কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি অনানুষ্ঠানিক তালিকা অনুযায়ী, এখনো প্রায় ৩৮ হাজার ৫০০ জনের খোঁজ মেলেনি। যদিও ভূমিকম্পের পরপরই এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ হাজার।

গত বুধবার কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রথমে ৭ দশমিক ২ এবং পরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ১৯০০ সালের পর এটিই দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জানান, দুর্যোগে লা গুয়াইরা অঞ্চলের প্রায় সব শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।

সরকারের হিসাবে, ভূমিকম্পে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়েছে, যার মধ্যে ১৮৯টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অন্যদিকে নাসা ও ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে, প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রাথমিকভাবে ভৌত অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলার বলে অনুমান করেছে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান। আর ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্কের হিসাব অনুযায়ী, মোট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে।

সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে তেল রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর ক্যাটিয়া লা মার জ্বালানি টার্মিনালের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশটিতে ৯০০ জনের বেশি সদস্য নিয়ে চারটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুয়ের্তো রিকো ও কুরাসাওয়ে আরও প্রায় ৮০০ জন উদ্ধারকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ১৫ কোটি মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

জাতিসংঘের সমন্বয়ে ব্রাজিল, মেক্সিকো, কানাডা, কিউবা ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে।

এদিকে ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ধীরগতিতে কাজ করেছে—এমন সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বেসামরিক সুরক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলার সব প্রটোকল কার্যকর করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত