নামাজ শেষে ফেরার পথে খালিদের শরীরে লাগে ৭০ গুলি 

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৪, ১২:১৪ পিএম

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মসজিদে আসরের নামাজ শেষে লালবাগের আমলিগোলার বাসায় ফিরছিল ১৬ বছরের কিশোর খালিদ হাসান। তবে কয়েক পা এগোতেই হঠাৎ সেখানে দৌড়ে এসে ঢুকে পড়ে আন্দোলনকারীদের একটি দল। তাদের পিছু পিছু পুলিশ এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আরও তিন-চারজনের সঙ্গে সেখানে গুলিবিদ্ধ হয় খালিদও। সেখানেই মারা যান খালিদ । তার শরীরে, পেটে আর বুকে ছিল শটগানের অন্তত ৭০টি ছররা গুলির চিহ্ন।

গত ১৮ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান ধানমন্ডির আইডিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী খালিদ। এখনো তাঁর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছেলের এই মৃত্যু মানতে পারছেন না বাবা কামরুল হাসান। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কামরুল হাসান বলেন, ‘পুলিশ তো আমার ছেলের পায়ে গুলি করতে পারত। যদি পায়ে গুলি করত তাহলে তো পঙ্গু হয়েও বেঁচে থাকত আমার ছেলেটা। পুলিশ পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেটাকে হত্যা করেছে।’

তিনি জানান, কোটা আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তিনি তার ছেলেকে বাইরে যেতে নিষেধ করেছিলেন। খালিদ শুধু নামাজের জন্য বের হতো।

লালবাগের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, আমার ছেলে কারও জন্য হুমকি ছিল না। সে কোনো বিক্ষোভেও অংশ নেয়নি। পুলিশ অন্যায়ভাবে আমার নিরপরাধ ছেলেকে গুলি করেছে।

খালিদের সঙ্গে সেদিন সেখানে আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুলিবিদ্ধদের একজন বলেন, সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল যে আমরা কী ঘটছে তা বুঝতে পারিনি। বিক্ষোভকারীরা যখন দৌড়ে ভেতরে আসছিল আমরা তখন কলোনি থেকে বের হচ্ছিলাম। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক পুলিশ সদস্য আমাদের দিকে বন্দুক তাক করে গুলি চালায়।

ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান কামরুল হাসান। সেখানে গিয়ে দেখে হাসপাতালের বেডে পড়ে আছে খালিদ। তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। হাসপাতাল থেকে খালিদের মরদেহ ছাড়িয়ে আনতেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে অসহায় এই বাবাকে। 

তিনি জানান, থানার ছাড়পত্র ছাড়া হাসপাতাল ছেলের লাশ দেবে না। সেদিন রাত আড়াইটার দিকে আমি ছাড়পত্রের জন্য লালবাগ থানায় যাই। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের পর পরদিন সকাল ৯টায় যেতে বলে। তবে পরদিনও তারা কোন সহযোগিতা করেনি। পরে দুইদিন পর ছাড়পত্র দিলে ২১ জুলাই ছেলের লাশ ফেরত পান কামরুল হাসান। পরে ফরিদপুরের ভাঙ্গার ভদ্রাসন গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় খালিদকে।

কামরুল হাসান বলেন, ‘অনেক আশা ছিল খালিদ আইনজীবী হবে। আমরা গরিব মানুষ। ছেলে চেয়েছিল বড় হয়ে আমাদের যাতে একটু সাহায্য করতে পারে। এখন আমি কার কাছে বিচার চাইব?’ খালিদের মা শুধু একটি কথাই বলেছেন, ‘তারা আমার ছেলেটাকে বাঁচতে দিল না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত