এক কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান জিনিয়ার আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৯ জুলাই) দায়ের করা এই মামলার বাদী ব্যবসায়ী মোরশেদ মঞ্জুর রুবেল।
মামলায় অন্য দুই অভিযুক্ত হলেন- রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও শাহজাদা খন্দকার। মোরশেদ মঞ্জুর রুবেল নগরের পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা। তিনি যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ড্রাইভার ছিলেন জানান বিদিশা এরশাদ।
মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হাশেম। তিনি জানান, আদালত মামলার শুনানির জন্য আগামী ৫ আগস্ট পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর আর্থিক অসুবিধায় পড়লে বিদিশা ও তার ছেলে এরিক এরশাদকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ধার দেন ব্যবসায়ী মোরশেদ মঞ্জুর। ধারের টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করেন অভিযুক্তরা। টাকা শোধের জন্য এরিককে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ায় বিদিশা ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসায়ী মোরশেদকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের গত ২১ এপ্রিল নগরের খুলশীর শফি টাওয়ারের মোরশেদের বৃদ্ধ বাবা-মা ও তার ছেলেকে বিদিশার পা ধরে ক্ষমা চাইতে বলেন রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও শাহজাদা খন্দকার। এ সময় তারা মোরশেদের ঘরে থাকা ১০ লাখ টাকা মূল্যের ২২টি হাতঘড়ি, বিভিন্ন ব্যাংকের সইবিহীন ছয়টি চেকবই, তিনটি স্মার্ট ফোন, বিদিশা ও এরিক এরশাদের কাছ থেকে কেনা গাড়ির ডকুমেন্টস ফাইল, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলসহ ব্যাগে রক্ষিত নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যান।
এ বিষয়ে বিদিশা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কুখ্যাত রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ড্রাইভার ছিলেন মোরশেদ মঞ্জুর রুবেল। বিষয়টি আমরা পরে জানতে পারি। রুবেল আমার ছেলে এরিকের পিএস ছিল। সে তাকে দিয়ে ৯০ লাখের দুটি ব্ল্যাংক চেক সই করিয়ে নেয়। এছাড়াও সে আমার বেশ কয়েকটি ব্ল্যাংক চেকের পাতা চুরি করে। সেগুলো পরে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সে এরিকের গাড়ি চুরি করেছিল।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে গুলশান থানায় একটা মামলা রয়েছে। ওই মামলায় গত ২১ এপ্রিল পুলিশ তাকে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার করে গাড়িটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সে জামিনে বের হয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছে। সে মূলত প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আমিসহ আরো দুজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছে। তার সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমরা তার এসব কর্মকাণ্ডে বিব্রত।
