গত বৃহষ্পতিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট পৌরশহরসহ জেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। জলাবদ্ধতায় রান্না-খাওয়া নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পৌরসভায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট পৌরসভার বাসাবাটি, খারদ্বার, সাহাপাড়া, মিঠাপুকুরপাড়, মেইনরোড, সাধনার মোড়, রাহাতের মোড়, থানার মোড়, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, পুরাতন বাজার, দাসপাড়ার মোড়, রেলরোড ও পোস্ট অফিস এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মোংলা ও রামপাল উপজেলার নিম্নাঞ্চল বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বাগেরহাট শহরের শিশু হাসপাতালের মোড়ের বাসিন্দা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি ঘরের মধ্যে উঠে যায়। তাতে রান্না-খাওয়া বন্ধের উপক্রম হয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সমস্যার মধ্যে আছি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই পানি বাড়ির উঠানে জমে থাকে। এই সমস্যার সমাধান করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শংকর কুমার মজুমদার বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাটে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এটাই বাগেরহাটে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। টানা বৃষ্টিতে জেলার নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এতে ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং উপকার হয়েছে। টানা বৃষ্টি হওয়ায় কিছুদিন আগে ঘূর্ণিঝড় রেমালের জলোচ্ছ্বাসে ফসলি জমিতে যে লবণ পানি উঠে মাটি লবণাক্ত হয়ে পড়েছিল, তা অনেকটা কেটে যাবে।’
বাগেরহটের জেলা প্রশাসক খালিদ হোসেন বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাগেরহাট পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তালিয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। কিছু বস্তি এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তাদের নানা ধরণের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রশ্বস্ত করতে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার কাজ চলমান আছে। এগুলো হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যাবে।’
