‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৪, ১১:৪৬ পিএম

শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অদলীয় রাজনৈতিক সামাজিক মঞ্চ। তারা মনে করে, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রযন্ত্র পরাধীন আমলের মতো বলপ্রয়োগ ও নিবর্তনমূলক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। 

শুক্রবার (২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন আপাতদৃষ্টিতে কোটা সংস্কারের দাবিকে সামনে রেখে হলেও এর অন্তর্নিহিত উৎস হলো বিদ্যমান ব্রিটিশ পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থা। 

মঞ্চ মনে করে, কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের সামাজিক আন্দোলনে বিনা উসকানিতে গুলি করার ঘটনা ব্রিটিশ-পাকিস্তানি আমলের (১৮৬১ সালের পুলিশ আইন) পুলিশের নিবর্তনমূলক চরিত্রের প্রকাশ পেয়েছে। ১৮৬১ সালের আইনে স্বাধীন দেশের পুলিশ চলতে পারে কি না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। 

ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, দেশে কর্মসংস্থানের সংকট, সীমাহীন দুর্নীতি এবং সর্বোপরি ব্রিটিশ পাকিস্তানি আমলের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে বলপ্রয়োগের অপচেষ্টা করা হয়েছে।‌ 

অবিলম্বে গণগ্রেপ্তার বন্ধের দাবি জানায় মঞ্চ। একইসঙ্গে নির্বিচারে গণগ্রেপ্তার বন্ধ ও আটকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানানো হয় মঞ্চের পক্ষ থেকে। 

মঞ্চ মনে করে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অদলীয় চরিত্রের যৌক্তিক আন্দোলনে নড়বড়ে হয়ে পড়া ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামো টিকিয়ে রাখতে আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আত্মঘাতী অপচেষ্টা চালাচ্ছে কেউ কেউ। যে ব্যবস্থা ক্ষমতায় যাওয়া ও ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোই টিকিয়ে রেখেছে। বলপ্রয়োগ করে ব্রিটিশ পাকিস্তানি আমলের শোষণমূলক রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। 

মঞ্চ থেকে বলা হয়, দেশে কোটির অধিক তরুণ যুবক রয়েছে যার অধিকাংশই বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরছে। সেই তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না বা কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপযুক্ত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তার ওপর আগুনে ঘি ঢালার মতো ব্রিটিশ পাকিস্তানি আদলের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার ছত্রছায়ায় কতিপয় মহল পাহাড়সম দুর্নীতি ও লুটপাট চালাচ্ছে। যা সরকারি চাকরির প্রতি বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। আমরা মনে করি, কোটা সংস্কার হলেও দেশে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন পূরণ হবে না। 

ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি পরাধীন আমলের শোষণমূলক রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন করে স্বাধীন দেশ উপযোগী আইনকানুন ও বিধিবিধান গড়ে তোলা ছাড়া চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মনে করে মঞ্চ।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন- ফ্রান্স প্রবাসী মনসুর চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা শিকদার মো. নিজাম, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ফেরদৌস আজিজ, সাবেক ছাত্রনেতা আমীর খসরু, সাবেক ছাত্রনেতা ও প্রবাসী খালেদ নোমান নমি, সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদের সমন্বয়ক মোশারেফ হোসেন মন্টু, জার্মান প্রবাসী হারুন অর রশিদ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সামাজিক রাজনৈতিক কর্মী মেহজাবিন রহমান, যুব সামাজিক শক্তি আবু বকর সিদ্দিক, শিক্ষক শামিমা আখতার খান, স্থপতি আরমান আবেদিন, স্থপতি মুমিনুল হক শাহিন, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহিম হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার তানভীর ফিরোজ, আইনজীবী অ্যাডভোকেট যুবায়ের হোসেন, নির্মাতা শাকিল সৈকত, শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ ফাহাদ, উন্নয়নকর্মী শাজনুশ টিটন, ইঞ্জিনিয়ার পারভেজ আহমেদ, আইনজীবী ব্যারিস্টার গোলাম আইয়ুব অভ্র, তরুণ উদ্যোক্তা রেজওয়ান রিয়াদ, সাংবাদিক হারুন অর রশিদ, প্রকাশক খান মুহাম্মদ মুরসালিন, সাবেক ছাত্রনেতা ফারহান হাবীব, সাবেক ছাত্রনেতা মো. মাহফুজুর রহমান, কবিতা'অলার সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুল বিন হানিফ, প্রভাষক তানিয়া সুলতানা, প্রবাসী ব্যাংকার নুসরাত জাহান, প্রবাসী আহমেদ জাবের চৌধুরী, ফ্রিল্যান্সার শফিকুল আলম, তরুণ উদ্যোক্তা মো. রাফিউজ্জামান, তরুণ উদ্যোক্তা জায়েদুল হক, তরুণ উদ্যোক্তা সায়েদুল হাসান রাকিব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত