বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সংঘর্ষ-মৃত্যুর খবর

  • বাংলাদেশের সংঘর্ষ ও মৃত্যুর খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৪, ১০:৫২ এএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারাদেশ। আন্দোলনের সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিনেই উত্তপ্ত ছিল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা।

গতকাল রোববার সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিনের সংঘাত–সংঘর্ষ ও মৃত্যুর খবর বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের সংঘর্ষের চিত্র।

এ আন্দোলন ঘিরে সংবাদ প্রকাশ করেছে বিবিসি, আল–জাজিরা, রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি, এএফপি ও এপির মতো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা।

বিবিসি

ব্রিটিশ গনমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষের মধ্যে বাংলাদেশে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছে। গত মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হলেও এখন তা ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

এছারা বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি জানালে বাংলাদেশে অস্থিরতা শুরু হয় বলে জানায় বিবিসি।

এছারা পুলিশ কর্মকর্তা নিহতের বিষয়টিও তুলে ধরেছে বিবিসি। সিরাজগঞ্জ জেলার একটি থানায় হাজার হাজার মানুষের হামলায় ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানায় গণমাধ্যমটি।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনটি দীর্ঘ সময় শীর্ষ স্থানে রাখা ছিল তাদের ওয়েবসাইটে।

আল জাজিরা

আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নতুন করে সহিংসতায় অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং স্টান গ্রেনেড ছোঁড়ে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুলিশ ও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ঢাকা ছাড়াও বগুড়া, পাবনা, রংপুর, মাগুরা, কুমিল্লা, বরিশাল ও ফেনীতে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

রয়টার্স

রোববার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে ৯১ জন নিহত এবং শতাধিক আহতের খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

নিহতের এই সংখ্যাকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে যে কোনো বিক্ষোভে একদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ নিহত বলছে রয়টার্স। এছাড়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এবং চলমান আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছেন এমন অভিযোগ এনেছেন তাঁর সমালোচনাকারী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। যদিও এ অভিযোগ শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীরা অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

নিউইয়র্ক টাইমস

বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি এবং সংঘাত নিয়ে প্রতিবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। বিক্ষোভে কয়েক ডজন মৃত্যুর পর বাংলাদেশে আবার কারফিউ জারি শিরোনাম দেয়া হয়ে তাদের প্রতিবেদনের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন মারা গেছে। দেশটিতে পুনরায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

এএফপি

এছাড়া বার্তা সংস্থা এএফপিও গুরুত্ব সহকারে প্রতিবেদন করেছে বাংলাদেশের চলমান সংঘর্ষ নিয়ে। রোববারের প্রতিবেদনে এএফপি জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চান বিক্ষোভকারীরা, চলমান সংঘর্ষে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।

এছাড়া চলমান আন্দোলনকে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকালে সবচেয়ে বড় আন্দোলন অ্যাখ্যা দিয়েছে এএফপি।

ভারতীয় গণমাধ্যম

এদিকে ভারতের প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশের অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে। বলা হয়েছে দেশজুড়ে সংঘর্ষে ৭২ জনের মত নিহত হয়েছেন।

হিন্দুস্তান টাইমস ‘সরকারি চাকরিতে কোটার বিরুদ্ধে আবার শুরু হওয়া বিক্ষোভে ৭২ জন নিহত’ নামক শিরোনামে প্রতিবেদন করে।

আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি চলমান সংঘাতে বাংলাদেশে থাকা ভারতীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রোববার বিক্ষোভকারী ও শাসক দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে ৭২ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। এই পরিস্থিতিতে সিলেটে অবস্থিত ভারতের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশন বাংলাদেশে অবস্থানকারী ভারতীয় নাগরিকদের হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ও সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত