খুলনায় দাপ্তরিক কাজ করলেও মাঠে নেই পুলিশ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৪, ০৭:১৪ পিএম

খুলনায় মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। জনরোষের ভয়ে গতকাল বৃহস্পতিবারও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেনি। শুধুই দাপ্তরিক কাজ করছে তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে গত তিন দিন ধরে কনস্টেবল থেকে সহকারী পরিদর্শক (এসআই) পদের পুলিশ সদস্যরা কর্মবিরতি পালন করছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালে এবং সরকার পতনের পর পুলিশ সদস্যরা চরম জনরোষের মুখে পড়ে। খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। অনেক থানায় হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। ফলে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে পড়ে। তারা জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে গত ৬ আগস্ট থেকে কর্মবিরতি শুরু করে। গতকাল বৃহস্পতিবারও তাদের কর্মবিরতি অব্যাহত ছিল।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কনস্টেবল বলেন, আমাদের সব সময় সাধারণ জনগণের সঙ্গে কাজ করতে হয়। হরতাল-অবরোধের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করে থাকি। আমরা কখনো চাই না জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষ হোক। কিন্তু অনেক সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমাদের সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েতে হয়। এ কারণে অনেক সময় প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটে। শুধু জনসাধারণ নয়, আমাদের পুলিশেরও জীবন দিতে হয়।

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, জনরোষের কারণে আমরা বাইরে বের হতে পারছি না। আমাদেরও স্ত্রী-সন্তান আছে। আমাদের সন্তানও শিক্ষার্থী। একদিকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি যাওয়াসহ ডিপার্টমেন্টাল নানান ধরনের শাস্তির ভয় থাকে। আবার বাসায় ফিরলে স্ত্রী-সন্তানের জেরার মুখে পড়তে হয়। এ অবস্থায় আমাদের চাকরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হতে চায় না। আমরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই।

খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি তদন্ত মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে না। তবে আমার ইউনিট ছেড়ে কেউ বাসায় চলে যায়নি। আমরা আমাদের থানার মধ্যে অবস্থান করছি।

তিনি বলেন, আমরা থানার মধ্যে কোনো শঙ্কা বোধ করছি না। কিন্তু বাইরে চলাফেরা করতে নিরাপত্তাহীন বোধ করছি। কারণ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তেরখাদা থানার ওসি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের সব সদস্যই স্টেশনে আছে। তবে কেউ বাইরে বের হচ্ছে না। যেভাবে পুলিশদের মেরে ফেলছে, তার কারণে বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। বাইরে গেলে যদি হামলা হয় সে কারণে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।

খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান বলেন, পুলিশ শুধুই দাপ্তরিক কাজ করছে এখন। একজন পুলিশ সদস্যও অনুপস্থিত নেই। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের আতঙ্ক নেই। খুব শিগগিরই তারা জনসাধারণের নিরাপত্তায় থানার বাইরে কাজ শুরু করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত