সমতার ভিত্তিতে সুন্দর একটা দেশ দেখতে চাই

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৪, ০৮:১৭ এএম

দেশে গঠন করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের প্রধান হলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের আপামর জনতা থেকে শুরু করে শোবিজের শিল্পী, নির্মাতারাও। এই সরকারের অধীনে সুন্দর একটি দেশ দেখতে চান বলে জানালেন জনপ্রিয় নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ। সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর

ছাত্রদের পাশে ছিলেন, কখন মনে হলো যে এদের পাশে থাকা উচিত?

অনেক আগে থেকেই আমার মনে হয়েছে যে, যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে থাকা উচিত। আমাকে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করেন, তারা জেনে থাকবেন যে, ২০১৮ সালে স্কুলের শিক্ষার্থীদের হওয়া কোটা আন্দোলনে আমি শুরু থেকে সরব ছিলাম। সে সময়েই অনেকটা ঝুঁকির মধ্য থেকেই সোশ্যালে পোস্ট করতে হয়েছিল। দমন-পীড়নের মাধ্যমে ছাত্রদের সেই আন্দোলনকে পুরোপুরিভাবে নস্যাৎ করা হয়। অনেকগুলো শিশু, ছাত্র প্রাণ হারায়। সেই বীভৎস সময় থেকেই আমি সরব ছিলাম।

অনেকেই ভয়ে কথা বলেননি, আপনি ভয় পাননি?

জুলাই মাসের ৭ তারিখ থেকে আমি সোশ্যালে এই আন্দোলন নিয়ে সরব হই। আমার সঠিক খেয়াল নেই ওই সময়ে আমাদের শোবিজের অন্যরা সরব হয়েছিলেন কি না! বেশিরভাগই হয়তো সরব হয়েছেন বিজয় আসার দু-এক দিন আগে থেকে, তারা আসলে ভয়ে ছিলেন কিংবা দলকানা ছিলেন আমাদের মিডিয়ায়। ছাত্রদের যেভাবে হত্যা করা হচ্ছিল, নিতে পারছিলাম না। আবু সাঈদ ভাইয়ের ঘটনার পর মনে হলো, এনাফ ইজ এনাফ। প্রতিবাদ করতেই হবে। একদিকে তিনি কালো শাড়ি পরে এসে টেলিভিশনের সামনে অভিনয় করছেন আর অন্যদিকে পুলিশের ক্র্যাকডাউনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুলিশ দিয়ে পেটাচ্ছিলেন, মারছিলেন, লাশ গুম করছিলেন। সেটা দেখে এরপর আর চুপ করে থাকার কোনো অপশনই ছিল না।

দেশটাকে কীভাবে দেখতে চান...

আমরা যেটা করেছি সেটা তাদের সহায়ক হয়ে করেছি, আমাদের জন্য, আমাদের বিবেকের তাড়নায়। ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে সুন্দর একটা দেশ দেখতে চাই। দুর্নীতিমুক্ত, সুন্দর শিক্ষাব্যবস্থা এবং কোনো মানুষ না খেয়ে মরবে না এ রকম একটা দেশ চাই। সবাই একতাবদ্ধ হয়ে এবার যে সরকারকে চেয়ার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়েছে, সব সময় একতাবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। ভবিষ্যতে নির্ভয়ে যেন প্রতিবাদ করতে পারি সেই বাকস্বাধীনতাটুকু চাই। বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের লাল-সবুজের পতাকা, এমন একটা দেশ দেখতে চাই।

সরকার কিংবা সমন্বয়কদের কাছে চাওয়া কী?

সরকার কিংবা এখন আমাদের সেভিয়ার হিসেবে আমরা যাকে ভাবছি, আমাদের নতুন আশার আলো সেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারকে সারা পৃথিবীর মানুষ সম্মান করেন। সমন্বয়কদের প্রতি একটাই আবদার, আপনারা সব সময় চোখ-কান খোলা রাখবেন। আপনারা যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করেছেন, ভবিষ্যতেও যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে একইভাবে নেতৃত্ব বজায় রাখবেন। আর দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। আমাদের জীবনে কোনো অত্যাচারের ঘটনা ঘটলে আপনারা এভাবেই রুখে দাঁড়াবেন এবং আমাদের সজাগ করবেন এটাই আপনাদের কাছে অনুরোধ।

শোবিজেও তো একটা পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। শোবিজে কী কী পরিবর্তন আসা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আমাদের শোবিজটা তো দলকানা ছিল। কতগুলো ইতর, জানোয়ার, অমানুষ দিয়ে ভর্তি ছিল আমাদের মিডিয়াটা। এর চেয়ে ভালো শব্দ তাদের জন্য আমার বলতে ইচ্ছে করছে না। যখন চারদিকে গণহত্যা চলছিল, তখন আমাদের অনেক সম্মানিত শিল্পী একবারও গণহত্যা নিয়ে কিছু বলেননি। আমাদের শোবিজে এখনো কিছু বর্ণচোরা রয়েছেন, যারা কি না কিছুদিন আগ পর্যন্ত ন্যূনতম প্রতিবাদ করেননি, কোনো কথা বলেননি তারা হচ্ছেন ওদেরই গোলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত