ববিতে রাজনীতির পক্ষাবলম্বনকারী সমন্বয়কদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা  

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৪, ০৮:১৫ এএম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যে সমস্ত সমন্বয়ক দলীয় লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতির চলমান রাখার পক্ষাবলাম্বন করবে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে সমন্বয়ক পরিষদ। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে সমন্বয়ক পরিষদের দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তথা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঘোষিত প্রাণের নয় দফা দাবীর অন্যতম একটি দফা ছিল ‘ক্যাম্পাসগুলোতে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে ছাত্র সংসদ কার্যকর করা’। অর্থাৎ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ছাত্র সংসদ ব্যতিত অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সমর্থন করে না।

যেহেতু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দাবী ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সকল ধরনের দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। সেহেতু, এমন ব্যক্তি যারা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে দলীয় রাজনীতির পক্ষাবলম্বন করেন, তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক দাবী করতে পারেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, যে সকল সমন্বয়ক ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি চলমান রাখার পক্ষাবলম্বন করেছেন, সেই সকল সমন্বয়কদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক পরিষদ-এর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।

কেন্দ্র ঘোষিত পরিষদে আমাদের অনেক অগ্রগামী সহযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় আমাদের বর্তমান পরিষদটি পূর্ণাঙ্গ নয় বলে আমরা মনে করি। শীঘ্রই আপনাদের মতামতের ভিত্তিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ত্যাগী, সংগ্রামী এবং অগ্রগামী সহযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ পরিষদ ঘোষণা করা হবে বলে আশা করছি।

জানানো হয়, আমরা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ছাত্র সংসদ ব্যাতিত কোনো দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি চাই না। অতএব, যদি কখনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিজেদের রাজনৈতিক দল হিসেবে ঘোষণা দিবে, সেদিন থেকে আমরা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করব না।

এই বিষয়ে সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, আমরা জানি বৈষম্যেবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু থেকেই অরাজনৈতিক ব্যানারে আন্দোলন করে আসছিল। আন্দোলনের একটা পর্যায়ে যখন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন ক্যামপাসে সহিংসতা চালায় তখন আরো বেশ কিছু দাবির সাথে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিও ওঠে। তখন সবাই দলমত নির্বিশেষে এই দাবীর পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যায়। কিন্তু আজ যখন স্বাধীন দেশ পেলাম আমরা তখন দেখলাম আমাদের মধ্যেই কিছু মানুষ ঘুরে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণে দাবীর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে গেল। আমরা মনে করি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির বিপক্ষে গিয়ে কেউ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হতে পারে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত