৬ এমপিসহ আত্মগোপনে সিরাজগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতারা

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৫৪ পিএম

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগের পর কঠিন বিপদে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। সিরাজগঞ্জ জেলার দাপুটে এমপি ও দলের প্রভাবশালী নেতারা এখন কে কোথায় আছেন তা কেউ বলতে পারে না।

জানা যায়, প্রাণভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন ৬টি আসনের সাবেক এমপিসহ দলের জনপ্রতিনিধি ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এতে অভিভাবকশূন্য সংকটময় এ দিনগুলোতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমপি ও নেতারা নিজের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকও বন্ধ রেখেছেন। এমনকি এমপি ও নেতাদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এমপি ও দলীয় নেতাদের বাড়িঘরে। এ হামলা ও অগ্নিসংযোগ থেকে বাদ যায়নি ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

আত্মগোপনে চলে যাওয়া সাবেক এমপিরা হলেন- সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর-সিরাজগঞ্জ সদর আংশিক) আসনের এমপি প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয়, সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ সদর আংশিক-কামারখন্দ) আসনের এমপি ড. জান্নাত আরা তালুকদার হেনরি, সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের এমপি ডা. আব্দুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শফি, সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের এমপি আব্দুল মমিন মন্ডল ও সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের এমপি চয়ন ইসলাম। জেলার এ ছয় সংসদ সদস্যের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চলমান এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৬ নেতাকর্মীকে হত্যা, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাও প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গত (৪ আগস্ট) সিরাজগঞ্জ শহরে শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগের হামলা ও গুলিবর্ষণের পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো জেলা। এতে সিরাজগঞ্জ শহর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রঞ্জু খান (৩৮), সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের গয়লা মহল্লার আসু মুন্সির ছেলে যুবদলের সদস্য আব্দুল লতিফ (২৫) ও একই মহল্লার গঞ্জের আলীর ছেলে ছাত্রদলের সদস্য সুমন শেখ (১৮) নিহত হয়।

এতে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা ড. জান্নাত আরা হেনরীর বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। একই সঙ্গে সাবেক এমপি হাবিবে মিল্লাত মুন্নার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে এ দিন রাতে জান্নাত আরা হেনরীর বাড়ি থেকে ছাত্রলীগ কর্মী শাহীন শেখ (১৮) গজারিয়া গ্রামের অটোরিকশা চালক জাহাঙ্গীর আলম (৪৬) এর পুড়ে যাওয়া কংকাল উদ্ধার করে পুলিশ।

একই দিনে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংবাদিকসহ ৬ জন এবং এনায়েতপুর থানায় ১৩ পুলিশ নিহত হয়। পরদিন আরও দুই পুলিশ সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মারা যান। ফলে এ আন্দোলনে সিরাজগঞ্জে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে জেলার থানা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় অধিকাংশ মানুষ বলছেন, আওয়ামী লীগের কিছু এমপি ও অনেক নেতারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক না রেখে নিজের পছন্দের লোক নিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো দল চালিয়েছেন। ফলে তাদের ব্যবহারে সাধারণ মানুষ অনেকটাই ক্ষুদ্ধ। তারা বিগত ১৫ বছরে নানাভাবে টাকার পাহাড় বানিয়েছেন। এখন জনরোষ ও হামলার ভয়ে আত্মগোপনে গেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, এমপি বা জেলার শীর্ষ নেতারা কে কোথায় আছেন আমরা কেউ জানি না। কারও সঙ্গে যোগাযোগও নেই। এমপিরা ও জেলার নেতারাই নন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। তবে দেশের পরিস্থিতি ভালো হলে তারা কেন্দ্রীয় নির্দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখবেন বলে তারা জানিয়েছেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত