বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) এর কার্যালয়ে হামলা ও চাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। হামলাকালে তারা দাবি করে, সিএজি নুরুল ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত এ হামলা চালায়।
সিএজি কার্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সিএজি কার্যালয়ে প্রবেশ করে একদল দুর্বৃত্ত। প্রথমেই তারা সিএজি কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় প্রশাসনের রুমে গিয়ে সিসিটিভি রেকর্ডিং ডিভাইস খুলে নেয়। এরপর সিএজি নূরুল ইসলামের রুমে প্রবেশ করেন। তারা সিএজি কার্যালয়ের দরজায় লাথি মারে এবং দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। তখন তাদের প্রতিহত করেন সিএজি কার্যালয়ের কর্মচারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে টহলরত সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। সেনাসদস্যদের প্রহরায় দুপুর ১২টার দিকে সিএজি নুরুল ইসলাম অফিস ত্যাগ করেন।
বুধবার সিএজি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি লিফলেট বিলি হয়। এতে লেখা রয়েছে, সেগুনবাগিচা হিসাব ভবন (এজি অফিস) চত্বরে সেবাপ্রার্থীদের বসার জায়গা সংকুচিত করে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনসহ সিএজির আওতাধীন সব কার্যালয়ে মুজিব কর্নার তৈরি করেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সিএজি নুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করে তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এতে অনেকে ক্ষুব্ধ ছিলেন।
সূত্রগুলো জানায়, ভবিষ্যতে সিএজি হতে চান—এমন কেউ ভাড়াটে লোক দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনাকে ব্যবহার করেছেন। ঘটনার পর সিএজি নুরুল ইসলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিনজন সমন্বয়কের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলে জেনেছেন, এ হামলায় কোনো ছাত্র ছিলেন না। তাঁরা হামলার বিরুদ্ধে পুলিশে নালিশ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সিএজি একটি সাংবিধানিক পদ। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১২৭(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মো. নুরুল ইসলামকে নিয়োগ দেন ২০২৩ সালের ১৪ জুলাই।
