বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে বাঁ চোখ হারাতে বসেছে সিরাজগঞ্জের হাজি কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী জুবায়ের হাসান জিহাদ (২২)। গত ১৬ জুলাই ইসলামিয়া কলেজ মাঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশে রোষাণলে পড়ে সে।
জিহাদ কামারখন্দ উপজেলার হায়দারপুর গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে। গরীব পরিবারের সন্তান হওয়ায় টাকার অভাবে সুচিকিৎসা করাতে পারছে না সে। ফলে সবার কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।
গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান জিহাদ বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজ মাঠ থেকে বের হয়ে রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় একটা গুলি আমার বাঁ চোখে লাগে। এরপর আমার বন্ধুরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতলে নিয়ে যায়। অবস্থা ভালো না দেখে চিকিৎসকরা ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। সেখানে চোখের একটা অপারেশন করা হয়। এরপরেও বাঁ চোখে দেখতে পাই না। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তাররা বলেছেন, এখনও তিনটা অপারেশন করতে হবে, তাহলে দৃষ্টিশক্তি ফিরতে পারে। আমি আমার চোখের দৃষ্টি ফিরে পেতে চাই।’
গুলিবিদ্ধ জিহাদের মা হাসি বেগম বলেন, ‘জিহাদের যখন ৫ মাস বয়স, তখন তার বাবা মারা গেছেন। আমার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এই ছেলেকে নিয়েই খুব কষ্টে জীবন-যাপন করছি। সে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আশা ছিল, রেজাল্ট ভালো করলে ঢাকায় ভর্তি করাবো। পড়াশোনা করে একটা চাকরি করলে আমার দুঃখ কেটে যাবে। কিন্তু ছেলে আন্দোলনে গিয়ে চোখটাই হারিয়ে ফেলল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলের চোখের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমার নেই। আরও তিনটা অপারেশন করাতে হবে। এতে ২-৩ লাখ টাকা খরচ লাগবে। আমি গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাবো! তাই সরকারের কাছে আমার দাবি, ছেলের সুচিকিৎসা করে তার চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিন।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিরাজগঞ্জের সমন্বয়ক সেজান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও দেশবাসীর কাছে জিহাদের সুচিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি। একইসঙ্গে সরকারের কাছে আবেদন তাকে যেন একটি সরকারি চাকরি দেওয়া হয়।’
