পাহাড়ি ঢল, ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পানিতে হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করেছে ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল। এই তিন জেলাসহ নয়টি জেলায় বন্যায় বিপর্যস্ত লাখো মানুষ। এমন পরিস্থিতিতেও পর্যাপ্ত সহায়তা করছে না বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)— এ অভিযোগে মতিঝিলে প্রতিষ্ঠানটির অফিস ঘেরাও করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় সেখানে ৫ দফা দাবিতে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এক ঘণ্টা অবস্থানের পর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে চেয়ারম্যান একজন প্রতিনিধি পাঠান।
সকাল ৬টায় মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএর কার্যালয়ে যান অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এ সময় নৌ-পরিবহণ কন্ট্রোল অফিসের কার্যক্রম বন্ধ পেয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং জবাবদিহি নিশ্চিতের কথা জানান তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা সাড়ে ৬টার দিকে অবস্থান ছেড়ে দেন।
এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতির ক্রান্তিলগ্নে আপনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নেমে পড়ুন। সব বাহিনী উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করুন। আপনাদের যেন আর নির্দেশনা দেওয়া না লাগে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সব শ্রেণির মানুষকে তিনি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, অনতিবিলম্বে সরকারি-বেসরকারি সকল বোট দুর্গত এলাকায় নিয়োজিত করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান করে বলুন প্রধান উপদেষ্টা থেকে নির্দেশ আছে। এক ঘণ্টার মধ্যে কন্ট্রোল রুম চালু করুন। জাতীয় সংকটের সময় দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ। দাবিসমূহ:
১. সরকারি-বেসরকারি যত স্পিড বোট আছে এই মুহূর্তে বন্যা কবলিত স্থানে পাঠাতে হবে।
২. ছোট ছোট লঞ্চ বিভিন্ন পোর্টে যেগুলো আছে খুব দ্রুতই বন্যাকবলিত এলাকায় পাঠাতে হবে।
৩.বন্যায় উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সব যানবাহনকে কর্তৃপক্ষ থেকে জরুরিভাবে জ্বালানি সরবরাহ করতে হবে।
৪. সব বেসরকারি ট্রলার ও স্পিড বোটকে এই ক্রান্তিলগ্নে ফ্রি করে দিতে হবে।
৫. যতদিন এই দুর্যোগ অবস্থা বিরাজমান থাকবে ততদিন ২৪ ঘণ্টাই কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং প্রতিটি এলাকায় প্রতিনিধি পাঠাতে হবে।
