ব্যাংক খাতে পরিকল্পিত ডাকাতি অচিরেই বাড়ছে সুদের হার

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ১২:৪২ এএম

খুব অল্প সময়ে দেশের ব্যাংক খাতের নীতি সুদহার বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন নতুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ‘পরিকল্পিতভাবে আর্থিক ব্যবস্থার ডাকাতি’ ব্যাংকগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে এবং পুঁজিবাজার ও বৃহত্তর অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, এখনকার সাড়ে ৮ শতাংশ থেকে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই এ হার বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে এবং আগামী মাসগুলোতে সেটি ১০ শতাংশ বা তারও বেশি বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আগামী মাসগুলোতে এই হার ক্রমেই বাড়ানো হবে। এটাকে আমরা প্রথমে ৯, তারপর সাড়ে ৯, তারপর ১০-এ নিয়ে যাব। এটা করতে আড়াই মাস সময় লাগবে।’

ব্যাংক খাতে পরিকল্পিত ডাকাতি হয়েছে উল্লেখ করে আহসান এইচ মনসুর বিবিসিকে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আর্থিক ব্যবস্থার ডাকাতি ব্যাংকগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে এবং পুঁজিবাজার ও বৃহত্তর অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।’ বলে সাক্ষাৎকারে জানান ড. আহসান এইচ মনসুর।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোর খেলাপি ঋণের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ পাচার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অর্থ পাচার ছিল “একবারে ব্যাংকের ডাকাতি”। তারা টাকা নিয়ে সিঙ্গাপুর, দুবাই, লন্ডনসহ অন্যত্র রেখেছে। তাই প্রথম প্রচেষ্টা হবে লোকদের নিয়ে কাজ করা এবং অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করা।’ সে ক্ষেত্রে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার কথা জানান তিনি।

জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য একটি প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স কমে যাওয়া এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পোশাক রপ্তানি খাত বাজেভাবে প্রভাবিত হওয়ায় বাংলাদেশি মুদ্রাও চাপের মধ্যে রয়েছে।

গভর্নর জানান, আইএমএফের কাছে আরও তিন বিলিয়ন ডলার চেয়েছি,  যা নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত দেড় বিলিয়ন ডলার এবং এডিবি ও জাইকা থেকে এক বিলিয়ন ডলার করে চেয়েছি।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে অনেকটা সফল হয়েছেন বলেও জানান গভর্নর। বিশেষ করে ‘আগস্ট মাসের বিপ্লবের সময় ডলারের বিনিময় মূল্য কমে ১২৫-এ চলে গেলেও এখন তা আগের দামে ফিরেছে’ বলেও দাবি করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত