জানাল মুম্বাই হাইকোর্ট

ইমেইলে নারীকে ‘অসম্মানজনক’ শব্দ পাঠানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ০৮:০৪ পিএম

কোনো নারীকে ই-মেইল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অসম্মানজনক’ শব্দ লিখে পাঠানো ঘোরতর অপরাধ। এর জন্য শাস্তিও হতে পারে। মুম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি এএস গডকড়ী ও বিচারপতি নীলা গোখলের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। মূলত, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় (নারীর শালীনতার অপমান) ২০০৯ সালে করা এক মামলা খারিজের শুনানিতে আদালত এ আদেশ দেন।

জানা গেছে, এক প্রতিবেশী নারীর করা ২০০৯ সালের একটি মামলা খারিজের আবেদন নিয়ে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জনৈক যুবক। মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন তিনি। ওই ব্যক্তি অভিযোগকারী নারীকে উদ্দেশ্য করে ‘আপত্তিকর’ ই-মেইলে লিখেছিলেন। অভিযোগকারী নারীর ভাষ্য, ইমেইলগুলোতে তার চরিত্র নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছিল এবং সোসাইটির আরও বেশ কয়েকজন সদস্যের কাছেও তা পাঠানো হয়েছিল।

অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি মামলা খারিজের আবেদনে বলেন, ৫০৯ ধারা অনুসারে ‘উচ্চারণ’ শব্দের অর্থ কেবল ‘কথ্য শব্দ’ হবে, কোনো ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ‘লেখা’ শব্দ নয়। আদালত তার যুক্তি খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, আদালতকে অবশ্যই ব্যাখ্যার একটি উদ্দেশ্যমূলক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

আধুনিক সমাজে সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভাব প্রকাশের ধরনও বদলেছে। তাই অনলাইনে কোনও মহিলাকে অসম্মান করে পোস্ট করা হলেও তা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। ন্যায্যতা, ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করতে সামাজিক রূপান্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যা এবং আইনি নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।

‘যদি এই ধরনের সংকীর্ণ ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়, তবে অনেক পুরুষ কেবল ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নারীকে বিনা বাধায় অপমান করবে। আধুনিক প্রযুক্তি এ ধরনের অপরাধকে বাস্তব করে তুলেছে,’ বলেন আদালত।

বেঞ্চ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীকে পাঠানো ইমেইলের বিষয়বস্তু ‘নিঃসন্দেহে মানহানিকর এবং সমাজের চোখে ভাবমূর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যে’।

শেষে আদালত মামলাটি বাতিলের আবেদন খারিজ করে। তবে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারায় (শালীনতা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে কোনো নারীকে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ) অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত