‘হুড়মুড় করে বেড়েছে পানি, মনে করেছিলাম আজই শেষরাত’

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৪১ পিএম

‘বুধবার রাতটি ছিল আমাদের জন্য বিভীষিকাময়। রাত যত গভীর হচ্ছিল, ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতও হচ্ছিল। পানিও হুড়মুড় করে বেড়ে চলছে। মনে করেছিলাম, আজই শেষরাত।’ শনিবার (২৪ আগস্ট) এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন বিধবা ফিরোজা বেগম। তার বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সোনাপুর গ্রামে। বর্তমানে অবস্থান করছেন উপজেলার বাতিসা বালিকা বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে।

ফিরোজা বেগম  বলেন, ‘আল্লাহ দয়া করছেন বলে এখনো বেঁচে আছি। বৃহস্পতিবার কলার ভেলায় করে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছি। ঘরবাড়ির অবস্থা কেমন, তা–ও জানি না।’

একই আশ্রয়কেন্দ্রে সপরিবারে অবস্থান করা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে এলাকার পানি বেড়ে ঘরবাড়ি ভেসে যায়। বন্যা হবে, এত পানি হবে—কল্পনাও করিনি। আমার ৭৬ বছরের জীবনে এত পানি দেখি নাই।

তিনি বলেন, ‘উপজেলাটি ভারতের সীমান্তবর্তী হলেও এখানে কখনো বন্যা হয়নি। আমার গ্রাম দেবীপুর অত্যন্ত উঁচু, এখানে এত পানি হবে—কল্পনাও করতে পারিনি। উপায়ান্তর না দেখে বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে এক কাপড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে উঠি। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কবে বাড়ি ফিরব জানি না।’

মোজাম্মেল ও ফিরোজার মতো এক হাজারের বেশি বানবাসী পরিবার বাতিসা গার্লস স্কুল কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে তাদের ফেলে আসা বাড়িঘর নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

আনোয়ারা বেগম (৬০) ও মনোয়ারা বেগম (৬২) দুই বোন। গত বুধবার রাতের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তারা বলেন, ‘আমাদের এ বয়সে কখনো চৌদ্দগ্রামে বন্যা হয়নি। এখনো বেঁচে আছি, এটাই শুকরিয়া। বাড়িঘরে পানি টইটই করছে। এক কাপড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি। কবে পানি নামবে, জানি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত