কুয়াকাটার মানুষের আতঙ্ক— ওসি খায়ের

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪, ০১:১৩ পিএম

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সাবেক ওসি খন্দকার মো. আবুল খায়ের উক্ত থানায় কর্মরত অবস্থায় শ্বশুরের নামে কিনেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। ওই সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় কোন অর্থ পরিশোধ না করে প্রতিবেশী হালিম মোল্লা নামের এক জমির মালিককে জেল হাজতে প্রেরণ করে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাবেক ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, দাবীকৃত অর্থ না দিলে চলতো গুম ও মামলা দেওয়ার হওয়ার হুমকি। সাবেক ওসির দুর্নীতির সরেজমিন তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ভুক্তভোগীদের।  

ভুক্তভোগী হালিম মোল্লা বলেন, দেড় বছর আগেও পটুয়াখালীর পশ্চিম কুয়াকাটা এলাকায় সড়ক লাগোয়া ৭ শতাংশ জমির বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। ২০২৩ সালের এক রাতে তৎকালীন মহিপুর থানার ওসি খন্দকার মো. আবুল খায়ের একটি মামলায় সাক্ষী দেওয়ার জন্য ছেলেসহ হালিম মোল্লাকে থানায় নিয়ে আসেন। পরের দিন সকালে তাদের একটি মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করেন। সাত দিন হাজত খেটে বাড়ি ফিরে দেখেন তার বাড়ির চার পাশে উঁচু সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দখল করে নিয়েছে ওসি। সাইনবোর্ডে জমির মালিক হিসেবে ওসি খায়েরের শ্বশুর মো. এনায়েত করিমের নাম লিখে দেন। এরপর আর নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি হালিম মোল্লা।

এদিকে সাইনবোর্ডে জমির তপসিল উল্লেখ থাকলেও জমির পরিমাণ উল্লেখ নেই। সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে— রেজিস্ট্রি বায়না সূত্রে এই জমির মালিক মো. এনায়েত করিম। জেএল নং ৫৭, কুয়াকাটা মৌজা, বিএসখতিয়ান নং ১২৮৪, বিএসদাগ ১২২৯। তবে জমির পরিমাণ বাংলায় লেখা থাকলেও তা উল্লেখ নেই।  

স্থানীয় বাসিন্দা শুকুর মাঝি জানান, ওসি খায়ের তার শ্বশুরকে উপহার দেওয়া সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় কোন অর্থ পরিশোধ না করে হালিম মোল্লা নামের এক জমির মালিককে জেল হাজতে প্রেরণ করে জমি দখলে নিয়েছেন। অসহায় পরিবারটি আজ ভূমিহীন অবস্থায় আছেন। সাবেক এই ওসির দুর্নীতি তদন্ত করে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

প্রকাশ্যে ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটের সভাপতি মো. কাওসার বলেন, ওসি খায়ের সাহেব একজন অসৎ মানুষ। মহিপুর থানায় থাকাকালীন সময়ে আমাকে অফিসে ডেকে টাকা চায়। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে আমার দোকানের বৈদ্যুতিক লাইন কেটে দেয়। পরে টাকা দিয়ে সেই সংযোগ আবার চালু করি। 

স্থানীয় সাংবাদিক রুমি শরীর বলেন, আমি বিএনপির সমর্থন করি বলে ওসি আমার দোকান থেকে প্রায় চাঁদা নিতো। টাকা না দিলে গুম ও মামলার হুমকি দিতো। ছাত্রদলের এক নেতা সোহেল রানা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন সময়ে প্রতিমন্ত্রীর ছেলে পরিচয় দিয়ে এই ওসি খায়ের বহু মানুষকে অত্যাচার করেছে। বিনা অপরাধে আমাকে বহু মামলায় অজ্ঞাত আসামি করার ভয় দেখিয়ে প্রায়শই মোটা অংকের টাকা নিতো। টাকা না দিলে থানার লোক পাঠিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাত। টাকা দেওয়া মাত্র চলে যেতো। 

ট্যুরিজম একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ওসি খায়ের থানায় কর্মরত অবস্থায় প্রকাশ্যে চাঁদা গ্রহণ করতেন। আর ঘুষের দিতে না পারলে বা দিতে না চাইলে গুম ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হতো বলে অভিযোগ করেন অনেক ভুক্তভোগী। এছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ক্ষমতা দেখিয়ে সন্ত্রাসীর কর্মকাণ্ড চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী অভিনেতা সাদ্দাম মাল বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদীপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে বরিশালের জনপ্রিয় অভিনেতা সাদ্দাম মালকে বেশ কয়েকদিন কারাবাস করিয়েছেন ওসি খায়ের। সাদ্দাম বলেন, তাঁর (ওসি খায়ের) কাছে কেউই নিরাপদ নয়। সঠিক তদন্ত করে দুর্নীতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান এই শিল্পী।

বর্তমানে ঝালকাঠি সদর ফাঁড়ি ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত আছেন ওসি খন্দকার মো. আবুল খায়ের। দুর্নীতির বিষয়ে বক্তব্য নিতে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সাবেক ওসি খন্দকার মো. আবুল খায়েরের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক ক্ষুদে বার্তা দিলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আহমাদ মাঈনুল হাসান বলেন, সাবেক ওসি মহিপুর খন্দকার মো. আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের কাছে কোন ধরনের অভিযোগ নেই। কেউ যদি অভিযোগ দেয়। তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত