নিষিদ্ধ জালে হুমকির মুখে মৎস্যসম্পদ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৪, ০৩:০৯ পিএম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় খাল-বিল, বাঁওড়, নদী-নালা ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে নির্বিচারে ছোট-বড় মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করায় এ অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মৎস্যসম্পদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার বেড়িরহাট গ্রামের মৎস্যজীবী পবন মাঝি বলেন, ‌‌‘আমরা এই অঞ্চলে সারা বছর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। বর্তমানে দেশি প্রজাতির মাছের বড় অভাব। আর এই নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে যেভাবে মাছ মারা হচ্ছে, তাতে কিছু দিনের মধ্যে এই অঞ্চলের মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ জালে পানিতে থাকা পোকা পর্যন্ত মরে যাচ্ছে, যা এই অঞ্চলের জন্য হুমকিস্বরূপ।’ 

উপজেলার টিটা গ্রামের বাঁওড়ে গিয়ে দেখা যায়, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে জেলেরা। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পবনবেগ গ্রামের দুজন জেলে জানান, বর্তমান কিছু অসাধু মাঝি অধিক মুনাফার আশায় চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে। এসব জালে খুব সহজেই প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। বর্ষার শুরু থেকে তারা এ জাল দিয়ে মাছ ধরছে। কারেন্ট জালের চেয়ে এই মশারী জালে পানিতে থাকা ছোট মাছ বেশি ধরা পড়ে। এতে জেলেদের বেশি আয় হয়। এ কারণে এই জাল নিষিদ্ধ থাকার পরেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করে যাচ্ছে মৎস্যজীবীরা। 

নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে এক জেলে | ছবি: সংগৃহীত

পানাইল গ্রামের সাজ্জাত হোসেন জানান, শুধু মাত্র টিটা বাঁওড়ে কয়েক হাজার চায়না দুয়ারি জাল রয়েছে। উপজেলার অন্য কিছু স্থানে অভিযান হলেও এ অঞ্চলে তেমন কোনো অভিযান চালানো হয় না। এতে এ অঞ্চলের মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে মাছ শিকার করছে। এ এলাকায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অভিযান পরিচালনা করে মাছ শিকার বন্ধ করতে হবে। তা না হলে এসব অঞ্চলে দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’ 

আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুল হক শিকদার বলেন, ‘নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত দেশি প্রজাতির পুঁটি, ট্যাংরা, কৈ, শিং, মাগুর, খালিশা, শৈল, টাকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ ও পোনা ধ্বংস হবে। বিপন্ন হবে কুঁচিয়া, ব্যাঙ, সাপসহ বিভিন্ন জলজপ্রাণি।’ মৎস্যসম্পদ রক্ষায় তিনি খুব শিগগিরই এ জালের ব্যবহার বন্ধের পরামর্শ দেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, ‘অবৈধ নিষিদ্ধ জাল, কারেন্ট জাল বা ফাঁদ বিল-বাঁওড়, নদী-নালা, খাল ও মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদের জন্য বিরাট হুমকিস্বরূপ। এদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমীন ইয়াসমীন বলেন, ‘আমরা এসব নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন জলাশয় থেকে জাল জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যেমে আগুনে পোড়ানো হয়েছে। সব ধরনের নিষিদ্ধ জাল বন্ধে মৎস্যজীবীদেরও সচেতন করে তোলা হবে।’  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত