অবৈধ বালু উত্তোলনে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সাহেবেরঘাট ব্রীজ সংলগ্ন সংযোগ সড়কের মাটি ধসে বিশাল গর্ত তৈরী হয়েছে। আর এতে বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) রাতে ছোট ফেনী নদীতে সংযোগ সড়ক ধসে গিয়ে সোনাগাজী-সোনাপুর সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। খবর পেয়ে শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকেই সড়ক সংস্কারে নেমেছে নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ সড়ক ও জনপদ এবং পানি উনয়ন্ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে সড়ক নদীতে ধসে গেছে। যার কারণে ফেনী ও নোয়াখালীর দুই জেলার সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
স্থানীয় শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ব্রীজ সংলগ্ন নদীতে থেকে বালু উত্তোলন করেছে সোনাগাজীর আব্দুর রাজ্জাক সেন্টু নামে যুবলীগ নেতা। প্রশাসন,পানি উন্নয়নবোর্ড ও সওজ কর্মকর্তাদের বারবার অবহিত করা হলেও তারা অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নেয়নি। বালু উত্তোলনের কারণে সড়কের নিচ থেকে মাটি ও বালু সরে গিয়ে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সংযোগ সড়কে গর্ত তৈরী হয়। প্রতিবারই এলাকাবাসী বালু দিয়ে গর্ত বরাট করে সড়কটি রক্ষা করে। এবার ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পনি তীব্র বেগে ছোট ফেনী নদীতে প্রবেশ করার সাথে সাথে সংযোগ সড়কের পাশে মাটি সরে গিয়ে নদীতে পড়তে থাকে। এলাকাবাসী গত কয়েক দিন ধরে নদীতে বালির বস্তা ফেলে সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করলেও বৃহস্পতিবার রাতে সড়কের ব্রীজ সংলগ্ন অংশ ধসে যায়।’
ইব্রাহিম সাঝি নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘দ্রুত সড়ক মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি যুবলীগ নেতা সেন্টু ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।’
সরজমিনে দেখা যায়, সড়ক ধসে যাওয়াতে স্থানীয়রা ব্রীজের উভয় অংশে ব্যারিকেড় দিয়ে চলাচল বন্ধ করেছে দিয়েছে। উভয় পাড়ের লোকজন ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেটে ব্রীজ পার হচ্ছে। কয়েকটি ট্রাকে ধসে যাওয়া সড়কে বালু ফেলা হচ্ছে। একই সাথে ধসে যাওয়া সড়ক নতুন করে নদীতে যাতে তলিয়ে যেতে না পারে তার জন্য বালু জিও ভরে নদীতে ফেলা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, গত কয়েকদিন আগে বন্যার পানির চাপে মুছাপুর ক্লোজার নদীতে তলিয়ে যায়। তারপর থেকে ছোট ফেনী নদীতে জোয়ার ভাটার কারণে সাহেবেরঘাট ব্রীজের সংযোগ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পাশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য বৈদ্য দেশ রুপান্তরকে বলেন, ‘শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে ধসে যাওয়া সড়কে মাটি ভরাট করে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। নদীতে জোয়ার ভাটার কারণে ভাঙ্গন ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে অনেক সময় লাগবে। ফেনী পানি উন্নয়ন তৎপর হলে দ্রুত সমাধান হবে। তিনি দাবি করেন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারনে ব্রীজ সংলগ্ন সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা সেটা নিরুপণের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
বালু উত্তোলন বন্ধ ও যথাসময়ে সড়ক সংস্কার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বালু উত্তোলন নিয়ে দেশ রুপান্তরে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেননি।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডেও নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শ্হাারিয়ার বলেন, ‘আমরা ছোট ফেনী নদী থেকে কাউকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়নি। অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের খবর যখনি পেয়েছি আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। বালু উত্তোলনের কারণে যদি সংযোগ সড়ক ধসে যায় তবে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসায় জানান, সড়কটি ধসে যাওয়ায় আপাতত সোনাগাজী-সোনাপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে। এরইমধ্যে সড়কটির কাজ শুরু করার বিষয়ে নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন যাতায়াত করে। এছাড়া সোনাগাজীর উজেলার সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। সড়কটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে ।
জ্বালানি তেলের দাম কমল
‘রাজাকার বলে সকল আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেছে আ. লীগ’
পুতিনকে গ্রেপ্তার করতে মঙ্গোলিয়ার প্রতি আহ্বান ইউক্রেনের
শেষবার ফোন করে মাসুম বলেছিল— মা আমি ভালো নেই, ওরা আমাকে মারছে
অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পেলেন রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলে
১৬ বছর পর জেদ্দা কনস্যুলেটে বিএনপির নেতাকর্মীরা