গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সাংবিধানিক সংকট ও কাঠামোর বিষয়ে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করেছে এবি পার্টির আইনজীবীদের সংগঠন এবি পার্টি ল’ইয়ার্স। সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী নেতারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সংবিধান সচল রয়েছে না রহিত করা হয়েছে তা সুস্পষ্ট নয়। তারা সাংবিধানিক অস্পষ্টতা শিগগির দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিকেল ৪টায় বিজয় নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও সংবিধানের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবি পার্টির সহকারী সদস্যসচিব ও এবি লইয়ার্সের যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া।
আইনজীবী নেতারা বলেন, সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ‘র্যান্ডমলি পিক অ্যান্ড চুজ’-এর ভিত্তিতে চলছে, যা যে কোনো সময় জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক বলেন, গত ২৫ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দেন তাতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বিদেশনীতিসহ অনেক বিষয় উঠে আসলেও সংবিধান সম্পর্কে কোনো বক্তব্য আমরা পাইনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সংবিধান সচল রয়েছে কিংবা রহিত করা হয়েছে কোনটাই সুস্পষ্ট নয়। সরকারকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অসংগতি এখনই দূর করা দরকার। না হলে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে। কাজেই এটা নিয়ে দ্রুত একটি প্রেসিডেন্টশিয়াল অর্ডিন্যান্স জারি করা দরকার। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত সরকার জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন অনুসারে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করে। কিন্তু এই সরকারের কাছে আমরা সে ধরনের কোন কিছু দেখতে পাচ্ছি না।
ব্যারিস্টার সানী সংবিধানের নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর সংশোধনী প্রস্তাব করেন।
এক. আর্টিকেল ৭বি— সংবিধানের মৌলিক বিধানগুলো সংশোধন যোগ্য নয়
দুই. আর্টিকেল ৭০— রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে বা দলত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল।
তিন. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য
চার. বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া (বিচার বিভাগ সংস্কার)
পাঁচ. গণভোট
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী যে সংবিধান জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল তার কোনো প্রতিফলন না ঘটিয়ে একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ৭২-এর সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল এই রাষ্ট্র হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে। কিন্তু আমরা এমন একটা সংবিধান পেয়েছি যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পন্থায় একটি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ ৭২ থেকে ৭৫-এর আওয়ামী শাসনামল এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিগত রেসিস্ট, গণহত্যাকারী সরকার।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। সংবিধান অক্ষুন্ন রাখার দোহাই যেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের সংস্কারকে ভবিষ্যতে ব্যর্থ করে না দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসাইন, এবি লইয়ার্সের যুগ্ম সদস্য সচিব ও দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান, সহকারী সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট তারেক আব্দুল্লাহ, অ্যাডভোকেট শরণ চৌধুরীসহ এবি লইয়ার্সের নেতারা।
দালালের হাতে জিম্মি ছেলে, মুক্তিপণ পাঠাতে ভিক্ষা করেন মা