খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হাসপাতালের ৫১ চিকিৎসককে অবাঞ্ছিত করার কারণে বন্ধ রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যসেবা। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে অনুপস্থিত ছিলেন বহির্বিভাগের অধিকাংশ চিকিৎসক। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপ—পরিচালক ডা. আক্তারুজ্জামানকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এ সময় আরও ৫০ জন চিকিৎসককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেন কার্ডিওলোজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল। ফলে বুধবার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হাসপাতালে অনুপস্থিত ছিলেন অধিকাংশ চিকিৎসক।
হাসপাতালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগে অন্তত ২০ জন চিকিৎসক অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া আন্তঃবিভাগে রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার কনসালট্যান্টসহ আরো ২০ জন চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। এতে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। চিকিৎসা সেবা না পেয়ে দূর—দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ফিরে যেতে দেখা যায়। নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকার কারণে তারা হাসপাতালে আসেননি বলে জানান হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।
ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। দুপুর গড়িয়ে আসলেও চিকিৎসক আসেননি। এখন ফিরে যাচ্ছি। শুধু আমিই না, অন্য রোগীরাও ফিরে যাচ্ছেন।
হাসপাতালে আসা রোগী তহমিনা বলেন, ডাক্তার দেখাতে এসেছি সেই সকালে, এখনও দেখাতে পারিনি। আজ (বুধবার) তো দেখাতে পারিনি, আগামীকালও ডাক্তার আসবে কি না জানি না।
ডাক্তারদের রুমের সামনে রোগীদের সিরিয়াল দেখভালের দায়িত্বরতরা জানান, সকালে আমরা এসেছি। এসে দেখি চিকিৎসকরা আসেননি। ফোন করলে তারা জানিয়েছেন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা, এ জন্য আসেননি। রোগীরা আসছেন, আবার ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুমন রায় ও ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জি এম ইকতিয়ার উদ্দীন বলেন, মঙ্গলবার ইনটার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের দাবির বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। এসময় ডা. মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে কিছু শিক্ষার্থী এসে আমাদের ঘিরে ধরে। পরে তারা উপপরিচালককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। আর আমাদের প্রায় ৫০ জন চিকিৎসককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বেশিরভাগ ডাক্তার আসেনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দেলনের সহ—সমন্বয়ক সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, গত ১৬ বছর যারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, তারা নিগৃহের শিকার হোক আমরা চাই না। আমরা জানতে পেরেছি, অনেকেই ব্যক্তিগত আক্রোশ মিটাচ্ছেন। একজনকে সরিয়ে দিয়ে আরেকজনকে বসানোর একটা ফায়দা লুটার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, এখানে বার বার একজন ডাক্তারের নাম উঠে আসছে। তিনি হলেন, কার্ডিওলোজি বিভাগের ডা. মোস্তফা কামাল। উনাকে আমরা পায়নি। উনার ব্যাপারেও আমরা তদন্ত করে দেখছি। কাউকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া আমরা সমর্থন করি না। কাউকে সরাতে হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে ধাপে ধাপে করতে হবে। একদিনেই এতো চিকিৎসক সরিয়ে দেব, এতে চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত হবে। পুরো খুলনা বিভাগে এর প্রভাব পড়ছে। আমরা সবার সঙ্গে কথা বলছি, স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গেও কথা বলবো।
তবে, এ ব্যাপারে ডা. মোস্তফা কামালের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
