বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৫৩তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:০৬ পিএম

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানী বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৩তম শাহাদত বার্ষিকী জন্মস্থান নড়াইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) কর্মসূচির মধ্যে ছিলো কোরআন খানি, শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান, দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ। 
 
নড়াইল জেলা প্রশাসন ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাষ্টের আয়োজনে সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের নূর মোহাম্মদ নগরে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন নড়াইল জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সদর উপজেলা প্রশাসন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ  কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠন। 

শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে পুলিশের একটি চৌকষ বাহিনী রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এসময় দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে একটি শোক র‌্যালী বের হয়ে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহম্মদ শেখ স্মৃতিস্তম্ভে এসে শেষ হয়।

১৯৭১ সালের এই দিনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি শাহাদতবরণ করেন। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। 

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন। বর্তমানে ‘বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ’(বিজিবি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই বাহিনীতে দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করার পরে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন তিনি। পরবর্তীতে ল্যান্স নায়েকে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব:) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এস এ মঞ্জুর। নূর মোহাম্মদ যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নের্তৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ শত্রুমুক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আশফাকুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট  মতিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. দোলন মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জুবায়ের হোসেরন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আরাফাত হোসেন প্রমুখ। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, বীরমুক্তিযোদ্ধা, নূর মোহম্মদ শেখের পরিবারের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত