ময়মনসিংহে সড়কজুড়ে গর্ত আর পানি, চলাচল ব্যাহত

  • চার কিলোমিটার সড়ক নিয়ে দুই বছর ধরে দুর্ভোগে এলাকাবাসী
  • বর্ষা শুরুর পর সড়কটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে আছে
  • প্রতিদিন গর্তে পড়ে রাস্তার ওপর বিকল হচ্ছে যানবাহন
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:১৭ পিএম

ময়মনসিংহ সদরের শম্ভুগঞ্জ থেকে বোররচর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের মাঝে চার কিলোমিটার সড়কজুড়ে খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টি হলেই এসব গর্ত ও খানাখন্দে জমছে পানি। ঠিকাদার ও এলজিইডির গাফিলতির কারণে এলাকার লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শম্ভুগঞ্জ বাজার থেকে বোররচর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও মেরামত কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে। এর মধ্যে বেশিরভাগ সড়ক সংস্কার হয়ে গেছে। তবে চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়ন থেকে জয় বাংলা বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কে ইটের খোয়া ফেলে সংস্কারকাজ শুরুর পর লাপাত্তা হয়ে যান ঠিকাদার। ফলে গত দুই বছর ধরে ওই অবস্থায় পড়ে আছে। 

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ পেয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাদিয়া অ্যান্ড সাদিয়া এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু ঠিকাদার সড়কে ইটের খোয়া ফেলে গত দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ রেখেছেন। এলজিইডির সঙ্গে কোনও ধরনের যোগাযোগ করছেন না। এ অবস্থায় তার সঙ্গে চুক্তিপত্র বাতিল করেছে এলজিইডি। 

বেহাল সড়কের কারণে এলাকাবাসীর ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়েছে। সবজি ও কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সময়মতো গন্তব্যে যাওয়া যাচ্ছে না। বেড়েছে পরিবহন খরচও। প্রতিদিন গর্তে পড়ে রাস্তার ওপর বিকল হচ্ছে যানবাহন। সংস্কারের অভাবে এই পথে হেঁটে চলাও প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা শুরুর পর সড়কটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে আছে। সড়কের গর্তে জমে আছে পানি।

সড়ক খানাখন্দে ভরপুর থাকায় পথচারীরা দুর্ভোগের শিকার জানিয়ে জয় বাংলা বাজার এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘শম্ভুগঞ্জ-পরানগঞ্জ-বোররচর সড়ক দিয়ে বোররচর, পরানগঞ্জ, সিরতা, চর ঈশ্বরদিয়াসহ আশপাশের গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ ময়মনসিংহ শহরে যাতায়াত করেন। গত দুই বছর ধরে সড়কের সংস্কারকাজ পড়ে থাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় এসব গর্তে পানি জমে মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। দীর্ঘপথ ঘুরে ময়মনসিংহ সদরে যেতে হয়। এতে বিশেষ করে রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত সবজি ও কৃষিপণ্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না অনেক কৃষক।’

বোররচর এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদার ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে আমাদের এই ভোগান্তি। সড়কটির স্থানে স্থানে ইট উঠে মাটির সড়কে পরিণত হয়েছে। গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ি পেতে কষ্ট হয়। মালপত্র আনতে অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া দিতে হয়।’ 

ভোগান্তির কথা জানিয়ে চর ঈশ্বরদিয়ার ট্রাকচালক বাবুল হোসেন বলেন, ‘সড়কের যে অবস্থা তাতে মনে হয়, এই বুঝি গাড়ি উল্টে গেলো। যন্ত্রপাতি তো নষ্ট হচ্ছেই। সেইসঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে জানতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাদিয়া অ্যান্ড সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

এলজিইডির ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী এনায়েত কবির বলেন, ‘গাফিলতির কারণে ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তিপত্র বাতিল করেছি আমরা। এরই মধ্যে দরপত্র ডেকে নতুন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরুর কথা রয়েছে নতুন ঠিকাদারের। আশা করছি, কাজ শেষ হলে মানুষের দুর্ভোগ কেটে যাবে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত