‘ঈশ্বরগঞ্জে কারেন্ট যায় না, মাঝে মধ্যে আইয়্যে’

  • ১৮/১৯ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে কাটছে নির্ঘুম রাত, মনগড়া বিল পাচ্ছে গ্রাহক
  • দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকায় ফ্রিজে থাকা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে
  • অভিযোগ নম্বরে ফোন করেও সাড়া মিলছে না কর্তৃপক্ষের
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:৩১ পিএম

সন্ধ্যার আগে মুদি দোকান থেকে মোমবাতি হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন মো. রনি মিয়া (২৪)। হাতে মোমবাতি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারেন্ট (বিদ্যুৎ) যা শুরু করছে, ঠিকমতো খাইতে পারি না। সারা রাইত ঘুমাইতে পারি না। রাইতে কি আর আন্ধাগোন্দা (অন্ধকারে) তাহন যাইবো?’

বিদ্যুৎ থাকার পরেও অন্ধকারে থাকবেন কেন জানতে চাইলে রনি বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় (ঈশ্বরগঞ্জ) কারেন্ট যায় না, মাঝে মধ্যে আইয়্যে।’ তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা রনি।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ বলেন,‘কারেন্টের কথা বলে আর লাভ নেই। রাইতে-দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫-৬ ঘণ্টাও থাকে না। এই আসে, এই যায়। বাজারে তো গরম আরও বেশি। তারপরও দোকান খুলে বসে আছি। কী আর করব।’

পৌর এলাকার স্মার্টফোন বিক্রেতা নূর মোহাম্মদ পিয়েল বলেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জে ৪-৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। এমন নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য কম হচ্ছে।’

প্রতীকী ছবি

উচাখলা ইউনিয়নের হরিয়াখালি গ্রামের বাসিন্দা রাহুল খান বলেন, ‘গত জুলাইয়ে আমাদের বিদ্যুৎ বিল আসে ৩৭৫ টাকা। আগস্ট মাসে তা দ্বিগুণ বেড়ে হয় ৮১০ টাকা। তারা মনগড়া বিল করে কাগজ পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু বিদ্যুতের খবর নাই। দিনে ১৮-১৯ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।’

স্থানীয়রা জানান, গত মাসের শেষ দিকে ভারী বৃষ্টি হলেও এরপর গরম শুরু হয়। গত এক সপ্তাহ উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় দৈনিক ৬-৭ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি। তীব্র গরমে যখন মানুষ হাঁপিয়ে উঠছে ঠিক তখনই এই লোডশেডিং।

সকাল, দুপুর কিংবা রাতে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে অনেকে বিরক্তি প্রকাশ ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ পেতে অভিযোগ নম্বরে ফোন করা হলেও কোনো সাড়া মিলছে না বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষের। তা ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও মিনিমাম চার্জ কিংবা ডাবল বিল  দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। লম্বা সময় লোডশেডিং থাকায় ফ্রিজে থাকা খাবার ও দ্রব্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থবিরতা নেমে এসেছে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসায়। 

ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম অনিতা বর্ধণ বলেন, ‘সারা দেশেই বিদ্যুতের সমস্যা। বিদ্যুতের উৎপাদন কম, চাহিদা বেশি। এছাড়া তীব্র গরমে এই চাপ আরও বেড়েছে। উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৪ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১৩ মেগাওয়াট। আমাদের কাজ বিদ্যুৎ বিতরণ করা। সাপ্লাই বেশি পেলে আমার বেশি সরবরাহ করতে পারব।’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী ইমতিয়াজ মামুন বলেন, ‘আমাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট। কিন্তু গত দুই-তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ পাচ্ছি তিন থেকে চার মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যু্ৎ না পাওয়ায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না। যদি আবহাওয়া পরিবর্তন হয় এবং দুই-একদিন বৃষ্টি হয় তাহলে এই দুর্ভোগ কেটে যাবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমিনা সাত্তার বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের বিষয়টি নিয়ে আমি জেলার সমন্বয় মিটিংয়ে আলোচনা করব। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত