নাটোরের বড়াইগ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ও সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের দাসগ্রাম বাজার ও রাজেন্দ্রপুর কুদুর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন—রাজেন্দ্রপুর গ্রামের বিএনপিকর্মী শহীদুল ইসলাম মালিথা (৩৮), সাগর আলী (২০), মামুন হোসেন (২১), জাহিদ আলী (১৮) ও মশিউর রহমান (২৮) এবং দাসগ্রামের রবিউল করিম (৩৯)।
এ ছাড়া সংঘর্ষে দাসগ্রামের মেহেদী হাসান (২৮), শাহ আজিজ (৪০), লিটন (৩৮), আওয়ামী লীগ কর্মী শাহিন মালিথাসহ (৬০) অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শহীদুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, অন্যদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল টিপু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জেরে গত রোববার সন্ধ্যায় টিপুর অনুসারীরা দাসগ্রাম বাজারে হাবিবুর রহমানের অফিস ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে হাবিবুর রহমান শতাধিক লোক নিয়ে বাজারে এসে গুলি চালানোসহ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে টিপুর লোকজন পালিয়ে যায়। পরে হাবিবুরের অনুসারীরা দাসগ্রাম বাজার ও রাজেন্দ্রপুর কুদুর মোড়ে ভাঙচুর চালায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গোলাগুলি ও লুটপাটের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আহতদের মধ্যে দুজনের শরীর থেকে অপারেশন করে গুলি বের করা হয়েছে। অন্য চারজনের শরীরে রাবার বুলেটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সরল মুরমু বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
