মানবাধিকার কমিশনের বিবৃতি

চিকিৎসার বিল পরিশোধে সন্তান বিক্রির ঘটনা মর্মান্তিক

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:১৬ পিএম

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে দিনাজপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুর রশিদ। চিকিৎসার বিল পরিশোধ করতে না পেরে তিনি নিজের মেয়েকে বিক্রি করে দেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনাটিকে মর্মান্তিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহত বাবার হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে মেয়েকে বিক্রির সংবাদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বপ্রণোদিত অভিযোগ (সুয়োমটো) গ্রহণ করেছে। এ অবস্থায় গুলিবিদ্ধ আব্দুর রশিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তাদের বিক্রি করা বাচ্চাটির বিষয়ে তাদের অভিমত গ্রহণ, তার ভরণপোষণজনিত বিষয়টি যাচাই ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাকে আর্থিকভাবে সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠাতে জেলা প্রশাসক, দিনাজপুরকে বলা হয়েছে।

সুয়োমটোতে উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ বাবার হাসপাতালের চিকিৎসার বিল পরিশোধের জন্য একটি শিশুকে ৩৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলার কাটাপাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুর রশিদ ও রোকেয়া দম্পতি গত ১০ আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া কন্যা শিশুকে গাইবান্ধার এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করা হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

নাগরিকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা যায় যে, সরকারি হাসপাতালে বিনা অর্থ ব্যয়ে তাদের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কেন এত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তা কমিশনের নিকট বোধগম্য নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত