বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠাকাল ১০ বছর উত্তীর্ণ হয়েছে সেগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়ার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে গেল কয়েক বছর এই নির্দেশনা ভঙ্গ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যের কাছে এসব অনিয়ম যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো নিয়ম না থাকলেও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম অবৈধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দফায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিলেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বর্তমান উপাচার্য সেই জায়গা থেকে বের হয়ে আসবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।
শিক্ষার্থী-কর্মকর্তারা বলছেন, সাবেক উপাচার্য মূলত তার অপকর্ম ঢাকতে তার আস্থাভাজন ব্যক্তিদের নিয়োগের মেয়াদ শেষ হলেও অবৈধভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে রেখেছিলেন। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজকর্ম বিতর্কের মুখে পড়ে। অবৈধভাবে যাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় একদিকে যেমন তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির বৈধ স্বীকৃতি পায় তেমনি সংশ্লিষ্ট পদে আসীন হওয়ার জন্য যোগ্য ব্যাক্তিরা বঞ্চিত হয়। ফলে বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যাক্তিদের মূল্যায়নের দাবি করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬ সালের ৩০০তম সিন্ডিকেট সভায় সকল পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই সভার ১৭ নম্বর আলোচ্যসূচির বিবিধ (ক)-তে বলা হয়, ‘এখন থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনও পর্যায়ে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।’ এরপর চলতি বছরের ২৩ মে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সিন্ডিকেট সভা থেকে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক রেজিস্ট্রার আবু হাসানকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে ৩০০তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করে ২০২২ সালে ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজকে ১ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে বিতর্কে পড়েন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে এই অবৈধ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রথা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি সমন্বয়ক ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য প্রসাশনসহ সকল পদগুলোতে সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক উপায়ে পদায়ন করা জরুরি। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার অবৈধ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রথা বাতিল করতে হবে। এই নিয়মবহির্ভূত নিয়মের ফলে যোগ্য ব্যক্তিরা যোগ্য পদ পায় না। এতে করে সংশ্লিষ্ট পদের অধীনে সংশ্লিষ্ট খাতগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে যায়। অবিলম্বে এই নিয়ম বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার বি এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক যে নিয়োগগুলো দেওয়া হয়েছে তা নিয়মবহির্ভূত বলে মনে করি। কারণ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ফলে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে তার যোগ্য পদ থেকে বঞ্চিত করে আরেকজনকে পদায়ন করা হয়। এটা নিঃসন্দেহে অন্যায়। সদ্য সাবেক রেজিস্ট্রার আবু হাসানকে সরকারি আইন দেখিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইউজিসির নির্দেশনা থাকা সত্বেও একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবে নিয়োগ দেওয়াটা নিয়মবহির্ভূত বলেই প্রতীয়মান হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘এখানে পুরোনো কোনো উদ্ভট সিস্টেমের চর্চা করার কোনো ইচ্ছা নেই। যদি কি না আমি অসম্ভব চাপে পড়ি অথবা এটার পেছনে কোনো যৌক্তিকতা থাকে।’
ভনপুত্র আর্চির কীর্তির আড়ালে সাকিব
ধানক্ষেত ও রেললাইনের পাশে মিলল দুই মরদেহ
ঢাবিতে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করায় বোনাস পাচ্ছেন শান্তরা