বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশ ও নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে নতুন রাজনৈতিক দল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে গোষ্ঠীস্বার্থ নয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। কিন্তু নতুন বাংলাদেশে যে দলবাজি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাতে শঙ্কা ও উদ্বেগের কারণ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনা থেকে রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষা না নিলে দেশ ঝুঁকিতে পড়বে।
‘নতুন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন: তরুণদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমণ্ডির কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনার ধারক হিসেবে একটি রাজনৈতিক শক্তি বিকাশের অপরিহার্যতা রয়েছে। এই নতুন রাজনৈতিক দল কখন হবে, কীভাবে হবে, কারা নেতৃত্ব দেবে সেটি এখন বিষয়। তবে সেখানে আমাদের সব মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে যুক্ত হতে হবে। এ বিষয়ে নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু বললে হবে না, এই পরিস্থিতি হচ্ছে কেন, এসব ঘটনা ঘটছে কেন, তাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাইকে যুক্ত হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের যে চেতনা, প্রত্যাশা পূরণে নতুন রাজনৈতিক দল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ টেকসই করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে, অন্যথায় তা সম্ভব না। তাছাড়া যারা সামনে নির্বাচনে অংশ নেবেন, ক্ষমতায় যাবেন, তারা যদি দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি করেন— যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, তাহলে আমাদের অনেক শঙ্কা ও উদ্বেগের কারণ রয়েছে। তা না হলে আপনারা নিজেদের ওই ফ্যাসিবাদের জায়গায় উপস্থাপন করবেন এবং একইভাবে আপনাদের পতন হতে হবে।’ রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্র, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা— সবাইকে শিক্ষা গ্রহণ করার পরামর্শ দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
আলোচনা সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এত বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকার থাকার একটা প্রভাব আমাদের মধ্যে রয়েছে। আমরা এখন ক্ষমতাকে ভয় পাই। সবাই মনে করে ক্ষমতায় যে যায়, সে রাবণ হয়। আমি মনে করি, কোথাও না কোথাও আমাদের বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আমি যদি সব ফর্মের ক্ষমতাকে ডিসওন করা শুরু করি তাহলে পরিবর্তন কাদের মধ্য দিয়ে আসবে? কোনো একটা ক্ষমতার ওপর তো আমাদের নির্ভর করতেই হবে। কোথাও না কোথাও তো আমাকে নোঙর ফেলতেই হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমরা যেটা ফেস করছি, সবাই আমাদের সন্দেহ করছে। কেন সন্দেহ করছে, কারণ আমরা যে ফরম্যাটে রয়েছি, এই ফরম্যাটে অতীতে যারা ছিল, তারা এই সুযোগটাকে ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ক্যাশ করার চেষ্টা করেছে বা ক্যাশ করেছে। যে কারণে মানুষের একটা অনাস্থা তৈরি হয়েছে।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সমন্বয়ক আরিফ সোহেল, জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব, উপস্থাপক ও গণমাধ্যমকর্মী ফারাবি হাফিজ, তরুণ কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন প্রমুখ।
১০০ কোটি নয়, কাজীপাড়া স্টেশন মেরামতে যত টাকা লাগছে
মুরগি ও ডিমের দাম বেঁধে দিল সরকার