ছাত্রলীগ নেত্রীদের হল ছাড়তে বললেন প্রাধ্যক্ষ, জানেন না প্রশাসন

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:৫৪ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলে ছাত্রলীগের পোস্টেড নেত্রীদের হল থেকে নেমে যাওয়ার নোটিশ দিয়েছেন হলের নতুন প্রাধ্যক্ষ। যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আদেশক্রমে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছেন, এ ধরনের কোনো আদেশ তারা দেননি। 

এমনকি হল প্রাধ্যক্ষদের কোনো মিটিংয়েও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন হলের একাধিক প্রাধ্যক্ষ। 

জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ওই হলে নোটিশ প্রকাশ করা হয়। এরপর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের পোস্টেড নেত্রীদের কক্ষে কক্ষে গিয়ে তাদের হল থেকে বের হয়ে যেতে বলেছেন প্রাধ্যক্ষ। পাশাপাশি মাইকিং করেও হল ছাড়তে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হলের একাধিক শিক্ষার্থী। 

গত ১৪ সেপ্টেম্বর হলের নোটিশ বোর্ডে সাটানো নোটিশটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো- 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আদেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ছাত্রী নিপীড়ক ও ছাত্রলীগের পোস্টেড নেতৃবৃন্দ আগামীকাল দুপুর ১২ টার মধ্যে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হলো'। 

হল প্রাধ্যক্ষের হঠাৎ এমন নোটিশ দেওয়াতে বিপাকে পড়েছেন হলের বৈধ আবাসিক ছাত্রলীগ নেত্রীরা। তারা বলছেন, আমাদের অনেকের সামনে পরীক্ষা। এখন হঠাৎ করে হল ছাড়তে বলছে। কোথায় যাব এখন। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও, আবাসিকতা থাকা সত্ত্বেও বের করে দিচ্ছে কেনো। এটা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রভোস্ট করছেন। 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক হল প্রাধ্যক্ষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি এরকম কোনো নির্দেশ পায়নি যে হলের পোস্টেড ছাত্রলীগের নেত্রীদের হল থেকে বের করে দিতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের কোনো নোটিশ দেননি। আর একজন ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল বা ছাত্র শিবিরের পদে থাকলেই যে সে নিপীড়ক হবেন বিষয়টি এমনও নয়। 

এ বিষয়ে জানতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক লাভলী নাহারকে ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন, 'আপনার সঙ্গে এভাবে কথা বলবো না। সরাসরি কথা বলবো। আপনাকে টাইম দেব তখন আসবেন।'

প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার ফোন রিসিভ করেননি। 

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে উল্লেখ করে তাদের হল থেকে বের করে দিতে হবে এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেয়নি। তবে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায়-অবিচার করেছে এমন ক্ষেত্রে সে যে দলেরই হোক সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'আমি প্রভোস্ট কাউন্সিলের যে যে মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলাম সেই মিটিংগুলোতে এ সমস্ত প্রসঙ্গে কোনো আলাপ হয়নি। কাজেই এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করা কঠিন।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত