বিগত দেড় দশকে বিচার বিভাগ ন্যায়বিচারের ঝাণ্ডা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিসিজমের দোসর বিচারকদের অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনো রয়ে গেছেন। এবিষয়ে প্রধান বিচারপতি ও আইন উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টে বিচারকদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতির দেওয়া অভিভাষণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বিগত দেড় দশকের বেশি সময়ে খুন, গুম, মামলা, হামলা, দমন-পীড়ন ও লুটপাটের মাধ্যমে নাগরিকদের ন্যূনতম অধিকার ও ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। চার হাজারের বেশি মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ৭০০’র বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। ৬০ লাখের বেশি মানুষ গায়েবি মামলার আসামি হয়েছিল। কথা বলার স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণের মাধ্যমে বিরোধী মত দমনের নিকৃষ্ট ইতিহাস রচিত হয়েছিল। সেই দুঃসময়ে আমাদের বিচার বিভাগ ন্যায়বিচারের ঝাণ্ডা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, নয়তো নতজানু অবস্থান নিয়েছিল বলে জনমনে ধারণা আছে। যা আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি।’
তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি বা অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি হতে পারে। জাতি প্রত্যাশা করে বিচার বিভাগ যেকোনো ধরনের দুর্নীতি বা সিন্ডিকেটমুক্ত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির প্রচলিত ধারণা অর্থনৈতিক লেনদেনকে বোঝালেও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি ডিনামাইটের চেয়েও ধ্বংসাত্মক। অ্যাটম বোমার বোমার চেয়েও ভয়াবহ। ক্যান্সারের চেয়েও মরণঘাতী যা ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি, যার ফলশ্রুতিতে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন আমাদের প্রধান বিচারপতির বাসভবন আক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সকল স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব এবং বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমি বিশ্বাস করি।’
তিনি বলেন, ‘বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের অনেক বড় সুযোগ আমরা হাতে পেয়েছি। আসুন আমরা জাতির স্বপ্নপূরণের এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সম্ভাবনার পথ ধরে এগিয়ে যাই।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি। বিগত সময়ের যেসব বিচারক ফ্যাসিজমের দোসর হিসেবে মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের ভূমিকা পালন করেছেন তারা এখন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বা গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিংয়ে রয়েছেন। এ বিষয়টি চলমান থাকলে জাতির কাছে ভুল বার্তা যাবে।’ এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি ও আইন উপদেষ্টার দপ্তরকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান তিনি।
