জাবিতে পিটিয়ে হত্যা

মামলা ও বহিষ্কার আদেশে ভুলবশত আরেক শিক্ষার্থীর নাম, পরে সংশোধন

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:১৭ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শামীম মোল্লা নামে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় মামলা ও বহিষ্কার আদেশে সংশোধনী আনা হয়েছে। এক আদেশে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভুলবশত ইতিহাস বিভাগের ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী জুবায়েরকে যুক্ত করা হয়। তার নাম প্রত্যাহার করে ফার্মেসি বিভাগের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলায় ও বহিষ্কার আদেশে এ সংশোধনী আনা হয়েছে।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়া, মামলা সংশোধনীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান।

আজিজুর রহমান বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডি ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রাথমিকভাবে জুবায়ের আহমেদকে শনাক্ত করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে যাচাই করে তার জানতে পারে তিনি এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। নির্দোষ হওয়ায় তাকে বহিষ্কার আদেশ ও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় মামলা ও বহিষ্কার আদেশে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জমসংযোগ কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩৯ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শামীম মোল্লার অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনার বিষয়টি আজকের প্রশাসনিক সভায় আলোচিত হয়। এ সময় প্রক্টরিয়াল টিম কর্তৃক উপস্থাপিত সংশোধিত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত ৮ জন শিক্ষার্থীর সাময়িক বহিষ্কারাদেশ তালিকায় সংশোধন করা হয়। পূর্বের প্রশাসনিক সভায় প্রক্টরিয়াল টিম কর্তৃক উপস্থাপিত প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযুক্তদের তালিকায় বর্ণিত ৪ নম্বর অভিযুক্ত ইতিহাস বিভাগের ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষের ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদের নাম ভুল হওয়ায় তাকে প্রত্যাহার করা হয় এবং প্রক্টরিয়াল টিম কর্তৃক উপস্থাপিত সংশোধিত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রশাসনিক সভায় বিধি মোতাবেক ফার্মেসি বিভাগের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এর আগে শামীম মোল্লার মৃত্যুর ঘটনায় গত ১৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাজন মিয়া এবং একই বিভাগের ৪৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ, ইংরেজি বিভাগের ৪৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হামিদুল্লাহ সালমান ও একই বিচাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল হাসান রায়হান, ইতিহাস বিভাগের ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৪৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আতিকুজ্জামান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহাগ মিয়া এবং বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহসান লাবিবকে সাময়িক বহিষ্কার করে। পরে ওইদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান সুদীপ্ত শাহীন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় বহিষ্কৃত ৮ শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত