শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ‘অদ্ভুত’ নিয়ম

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:০৭ পিএম

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নতুন একটি মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। কারণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো একক প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ অর্থ্যাৎ ৫০% এর বেশি ভোট পায়নি। এতে দ্বিতীয় ধাপে গড়িয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, যা দ্বীপ দেশটিতে এর আগে কখনো ঘটেনি। এ তথ্য জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য তামিল গার্ডিয়ান।

শ্রীলঙ্কার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে কমপক্ষে ৫০ ভাগ ভোট পেতে হয়। এ পরিমাণ ভোট কোনো প্রার্থী না পেলে দ্বিতীয় দফায় ভোট গণনা করা হয়।

সে অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম ধাপে এবার কেউই ৫০ ভাগ ভোট পাননি। দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট গণনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মার্কসবাদী অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে ও সাজিথ প্রেমাদাসা। কারণ নির্বাচনে তৃতীয় স্থানে থাকা বর্তমান প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে কম ভোট পাওয়ায় আগেই বাদ পড়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান আরএলএএম রত্নানায়েকে জানিয়েছে, প্রথম ধাপে অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে পেয়েছেন ৫৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৫ ভোট, যা মোট ভোটের শতকরা ৪২ দশমিক ৩১ ভাগ। সাজিথ প্রেমাদাসা পেয়েছেন ৪৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫ ভোট, শতকরায় ৩২ দশমিক ৭৬ ভাগ। অন্যদিকে রনিল বিক্রমাসিংহে পেয়েছেন ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬৭ ভোট (শতকরা ১৭ দশমিক ২৭ ভাগ)।

বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ওই দুই প্রার্থীকে দ্বিতীয় পছন্দের প্রার্থী হিসেবে যারা ভোট দিয়েছিলেন সেগুলো এখন গণনা করা হয়েছে।

যেভাবে ভোট দেওয়া হয়

ভোটাররা ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নামের সামনের খালি ঘরে ‘১’ নম্বর লিখে চিহ্নিত করতে হবে। একাধিক পছন্দ থাকলে সেই অনুযায়ী অন্যান্য নির্বাচনী প্রার্থীদের নামের সামনে থাকা খালি ঘরে পছন্দ অনুযায়ী ‘২’, ‘৩’ লেখা যাবে। অর্থাৎ প্রথম পছন্দ হলে ১ এবং দ্বিতীয় পছন্দ হলে ২ এবং তৃতীয় পছন্দ হলে ৩ লেখা যাবে।

যদি কোনো সদস্যের ব্যালট পেপার চিহ্নিত করার সময় ক্রুটি দেখা দেয় (আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো সদস্যের অনিচ্ছাকৃত কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হয়) তাহলে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে পারবেন। যদি রিটার্নিং কর্মকর্তা তাতে সন্তুষ্ট হন, তবে তাকে অন্য ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। নষ্ট হওয়া ব্যালট পেপার বাতিল করা হবে।

ভোট গণনার পদ্ধতি

যদি কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করে তবে শীর্ষ দু’জনের ব্যালট ফের গণনা করা হয়। বাদ পড়া প্রার্থীদের ব্যালটে যদি দ্বিতীয় পছন্দটি শীর্ষ দুই প্রার্থীর যেকোনো একজনের পক্ষে হয় তবে তা সেই প্রার্থীর পক্ষে ভোট হিসাবে গণনা করা হয়। যদি দ্বিতীয় পছন্দটি বাদ পড়া প্রার্থীর পক্ষে হয় তবে তৃতীয় পছন্দটি গণনা করা হয়। সেটি যদি শীর্ষ দুই প্রার্থীর যেকোনো একজনের পক্ষে হয়, তবে তা প্রার্থীর পক্ষে ভোট হিসাবে গণনা করা হয়। এভাবে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য ২০২২ সালে দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসের পতনের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশটিতে। শ্রীলঙ্কার এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ৩৯ জন।

২০২২ সালে দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও প্রেসিডেন্ট পলায়নের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশটিতে।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশটির বৈধ ১৭ মিলিয়ন (১ কোটি ৭০ লাখ) ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ গতকালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এর আগে ২০১৯ সালের নির্বাচনে রেকর্ড ৮৩ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছিল।

শ্রীলঙ্কার আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী যদি অর্ধেকের বেশি ভোট না পান, তবে অগ্রাধিকার ভোটের ওপর নির্ভর করে বিজয়ী প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। তবে দেশটির ইতিহাসে এর আগে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত