ইইউভুক্ত দেশসমূহে বাংলাদেশি খাদ্য রপ্তানির সতকর্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত 

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:৫৪ এএম

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে বাংলাদেশি খাদ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সতকর্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত  ১৮ সেপ্টেম্বর রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি)  সভাকক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন। সভায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দপ্তর ও এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং রপ্তানিকারকগন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শুরুতে ব্যুরোর পণ্য বিভাগের পরিচালক মো. শাহ্জালাল বলেন, সম্প্রতি ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথোরিটি’ ভারতের প্রায় পাঁচ (৫) শত রপ্তানিকৃত খাদ্যপণ্যে ইথিলিন অক্সাইড, কারসিনোজেনিক এর মত ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি সনাক্ত হয়েছে বিধায় ওই দেশ হতে খাদ্য ও মসলা আমদানি স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি প্যারিসস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস হতে জানানো হয়েছে। এ ধরণের সিদ্ধান্ত ইউরোপের বাজারে খাদ্য পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশী রপ্তানিকারদের জন্য একটি আগাম সতর্কবার্তা। 

আমাদের পাশ্ববর্তী দেশের খাদ্যে এমন ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ প্রাপ্তি একদিকে বাংলাদেশের জন্য যেমন অশনি সংকেত তেমনি অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানের জন্য দেশের সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং রপ্তানিকারকদের সমবেত প্রচেষ্টা জরুরি।

৮০০ কোটি মানুষের বর্তমান এ বিশ্বে খাদ্য পণ্যের বিশাল বাজার রয়েছে। স্ট্যাটিস্টা ২০২৪ এর তথ্য মতে, সারা বিশ্বে খাদ্য পণ্যের বর্তমান বাজার প্রায় ৯. ১২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার । কিন্তু কৃষিপ্রধান  দেশ হওয়া সত্বেও খাদ্য পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বের সেরা ১০ রপ্তানিকারক  দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা নেই যা কাম্য হতে পারে না। 

সভায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে খাদ্য রপ্তানির বর্তমান অবস্থা, নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত শর্তাবলি ও বিপণন মান নিশ্চিতকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ, পণ্যের স্বাস্থ্য সনদের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্য সনদ প্রাপ্তিতে জটিলতা ও তা সমাধানের উপায়, রপ্তানিতে নীতিগত সহায়তা প্রদান, পণ্যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণসহ সেবা সহজীকরণ ও বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশী খাদ্য পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিকল্পে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।  

সভায় মেজিস্টিক এন্টারপ্রাইজ লি. এর প্রতিনিধি জানান, তারা ১৯৯৮ সাল হতে ফ্রোজেন ফুডস (মাছ, কাঁচামরিচ, কচুর লতি, শাকসবজি) রপ্তানি করছে। রপ্তানির ক্ষেত্রে তারা নানাবিধ সমস্যার কথা সভায় উত্থাপন করেন। যেমন, অতিরিক্ত ফ্রেইট পরিশোধ, উপর্যুক্ত মেগনেট টেকনোলজি সমৃদ্ধ মেশিনের অভাবে পণ্যে হেভি মেটালের উপস্থিতির আদর্শমান নির্ণয় করা সময় সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। 

বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস এন্ড এ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন এর উপদেষ্টা বলেন, দেশের খাদ্যপণ্যে রাসায়নিক পদার্থসহ  অন্যান্য হেভি মেটালের সুনিয়ন্ত্রিত মাত্রা বজায় রাখতে ‘টেস্টিং কোয়ালিটি’ মান আরও ভালো করা এবং এ বিষয়ে অধিক গুরুত্বারোপ করা উচিত। এমনকি খাদ্যের গুণগতমান বজায় রাখতে উত্তম কৃষি চর্চার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি জানান, রপ্তানিযোগ্য খাদ্যে পণ্যের যথাযথ মান বজায় রাখতে তারা সর্বদা সচেষ্ট রয়েছেন এবং এ লক্ষ্যে নতুন নতুন প্রকল্প চলমান রয়েছে যা দেশের সার্বিক পণ্যের আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে সহায়ক হবে মর্মে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর প্রতিনিধি জানান, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহে পার্শ্ববর্তী দেশের যেসব খাবারে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐসব খাবারে বিদ্যমান রাসায়নিক পদার্থের আদর্শমান জানাসহ বাংলাদেশের পণ্যে সেই মান বজায় রাখতে সার্বিক সহায়তা করবেন। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান জানান, খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণার্থে সংশ্লিষ্ট  সংস্থার মতামত ও সুপারিশ গ্রহণপূর্বক রপ্তানিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত