সভাপতির চেয়ারে চোখ তাবিথের

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৪৯ এএম

২০২০ সালে ৩ অক্টোবর নির্বাচনে সভাপতি পদে ভোট গণনার পর দেখা গেল তাবিথ আউয়াল ও মহিউদ্দিন আহমেদ মহির প্রাপ্ত ভোট সংখ্যায় সমতা। দুজনই পেয়েছেন ৬৫ ভোট। অগত্যা ৩১ অক্টোবর এই পদে হয় পুনর্নির্বাচন। সেখানে ভাগ্যের সহায়তা পাননি আগের দুই মেয়াদের সহ-সভাপতি তাবিথ আউয়াল। চার বছর পর যখন কাজী সালাউদ্দিন আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তখন ফুটবলের ভবিষ্যৎ অভিভাবক হিসেবে আলোচনায় ছিল সেই তাবিথের নাম। শেষ পর্যন্ত গুঞ্জন সত্যি হয়েছে। সোমবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ২৬ অক্টোবর বাফুফে নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন তাবিথ। এর আগেই অবশ্য একই পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তরফদার রুহুল আমিন। তাবিথের ঘোষণার পর ফুটবলের নির্বাচনে লাগল নতুন রঙ।

তাবিথের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বড় ছেলে। তবে সেই পরিচয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তাবিথ। নিজে সক্রিয় হয়েছেন রাজনীতিতে, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বিএনপির ম্যান্ডেট নিয়ে ২০১৫ ও ২০২০ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে অংশ নেন। তবে ব্যবসা কিংবা রাজনীতি কখনই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাটা ভোলাতে পারেনি। ২০১২ আসলে প্রথমবারের মতো বাফুফের নির্বাচনে অংশ নিয়ে সহ-সভাপতি হন। পরের মেয়াদেও সাফল্যের সঙ্গে পেরিয়ে যান নির্বাচনী বাধা। তবে ২০২০ সালেই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হয়। ফলে গত চার বছর ফুটবলাঙ্গনে দৃশ্যমান ছিলেন না খুব একটা। তবে তার মালিকানাধীন নোফেল স্পোর্টিং ক্লাব অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। তাবিথের কথায় একটা আত্মিক সম্পর্কের বাঁধনে ফুটবলের সঙ্গে বাঁধা পড়েছেন তিনি। যা তাকে দেখাচ্ছে বাফুফে সভাপতির চেয়ারে বসে কাজ করার স্বপ্ন।

বাফুফের নির্বাচন এখন এক মাসের বেশি সময় বাকি। তাবিথের কাছে এখনই নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় উঠে যাওয়া খুব একটা পছন্দ হয়নি। তার এই ভাবনাতেই স্পষ্ট, সভাপতি পদে আরও আগে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া তরফদার রুহুল আমিনকে খানিকটা কথার লড়াইয়ে পেছেন ফেলতে চাইলেন, ‘আগে ক্রীড়াঙ্গনে একটা সংস্কৃতি ছিল যে মনোনয়নপত্র নেওয়ার পর নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু এবার একটু আগেভাগেই দেখছি আলোচনা হচ্ছে।’

‘অতীতে আমি কখনো কোনো প্যানেলে ছিলাম না, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও দুটি ক্লাব চালাই ফেনী সকার ক্লাব ও নোফেল স্পোর্টি ক্লাব। এর বাইরেও খেলোয়াড় এবং খেলা সংশ্লিষ্টদের সহায়তা করার চেষ্টা করেছি সব সময়। আজ এখানে আসার কারণ, গত কয়েক দিনে অনেকেই জিজ্ঞাসা করেছেন, আমি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেব কি না? হ্যাঁ, আমি অংশ নেব। বাফুফের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বেশ কিছু পদ আছে। আমি সভাপতি পদে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রার্থিতার কথা জানাচ্ছি। আমি আশাবাদী, সভাপতি পদে লড়াই করলে আমি জিতব এবং জিতলে আমি দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে পারব।’

দুই মেয়াদে সহসভাপতি

থাকাকালে বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্ব পালন করেন তাবিথ। এছাড়া জাতীয় দল কমিটিরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্বে

থাকাকালে দেশের প্রায় ৪০০ কোচকে লাইসেন্সের আওতায় আনেন তিনি। সে কথা জানিয়ে তাবিথ বলেন, ‘আমি যে দায়িত্বই পেয়েছি, স্বাধীনভাবে কাজ করেছি এবং সৎ ও স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নিয়েই চেষ্টা করেছি কাজ করতে। এবার যদি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সভাপতি হই তবে অনিয়ম, দুর্নীতির অমীমাংসিত অভিযোগগুলো নিয়ে অবশ্যই কাজ করব।’

ফুটবলের দায়িত্ব পেলে মাঠের পারফরম্যান্সে চমক দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাবিথ। পাশাপাশি ফুটবলের ব্র্যান্ডভ্যালু বাড়াতে কাজ করার কথাও বলেছেন তিনি। এছাড়া র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি, খেলোয়াড়দের মানোন্নয়নের বিষয়গুলো তো আছেই, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে চমক শব্দটা ব্যক্তির সঙ্গে মিলিয়ে ফেলছি। ফুটবলের চমক কিন্তু ব্যক্তি দিয়ে হয় না। ফুটবলের চমকটা হবে তখন যখন আমরা আরেকটি স্বর্ণপদক জিতে আসব, আমরা বিশ্বকাপের বাছাইয়ের অন্তত তৃতীয় পর্ব পর্যন্ত যেতে পারব। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যদি সভাপতি হতে পারি, আমি খেলার মাঠে চমক দেখাব। এছাড়া এমন কিছু করব না যাতে ফুটবলের ব্র্যান্ডভ্যালুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ দেশ ফুটবলের অনেক বড় ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে। এসব দিকে গুরুত্ব দিতে হবে আমাদের।’

তরফদার রুহুল আমিনের প্রার্থিতা ঘোষণার দিন উপস্থিত হয়েছিলেন বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক, সাবেক ফুটবল তারকা ও অধিনায়ক আমিনুল হক। এতে অনেকেই রাজনৈতিক বিভাজনের বিষয়টি তাবিথের সামনে তুলে এনেছেন। তাবিথ অবশ্য এটাকে বড় করে দেখতে নারাজ, ‘আমরা ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ভালোবাসি। আমিনুল হক সাহেবকে যদি আমার মতো একটা দলের গ-িতে বন্দি করে রাখেন তা শোভনীয় হবে না। তিনি ফুটবল অঙ্গনের একজন ব্যক্তি। সাফজয়ী দলের সদস্য, সাবেক অধিনায়ক। এখন কে কোন পরিচয় দিয়ে কাকে সাপোর্ট দিচ্ছে সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।’

২০১২ সালে প্রথম বাফুফেতে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই শীর্ষ পদের স্বপ্ন ছিল তাবিথের। ২৬ অক্টোবর জানা যাবে, সেই স্বপ্ন সত্যি হয় কি না। তবে তার আগে দৃশ্যপট বদলাবে বারবার। এ যে বাংলাদেশের ফুটবল। মাঠের সাফল্যের চেয়ে, চায়ের কাপ আর সোশ্যাল মিডিয়ায় এর অস্তিত্ব ঢের বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত