উত্তরাঞ্চলের বন্যা নিয়ে উদাসীনতা, সোশ্যালে ক্ষোভ

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:০৭ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য যেন প্রতিবাদের প্রতীক। যেকোনো অন্যায় অনিয়ম কিংবা বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে সেখানেই জড়ো হন বিভিন্ন সময়। এবার সেই ভাস্কর্যের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছেন এক তরুণ। তার চোখ বাঁধা পতাকা দিয়ে, হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা: ‘কেন কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কিংবা উত্তরাঞ্চল বন্যায় ডুবে গেলে বাংলাদেশ অন্ধ হয়ে যাও?’

তার এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে নেটিজেনরা প্রশ্ন রাখেন সম্প্রতি কুমিল্লা ও ফেনী অঞ্চলের বন্যায় দেশের মানুষ যতটা উদ্বিগ্ন ছিলেন উত্তরাঞ্চলের বন্যায় ঠিক ততটাই নীরব।

তার প্রতিবাদের ছবি শেয়ার দিয়ে গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা একে প্রামাণিক পার্থ প্রশ্ন রাখেন সতীনের ছেলে নাকি উত্তরবঙ্গ? সেখানে নানা মন্তব্য করতে দেখা যায় নেটিজেনদের। সুজন রয় নামের একজন লিখেন, শিল্পীপতি, কোটিপতি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক উত্তরবঙ্গে কি নাই? না এটি বাংলাদেশের অংশ নয়, এতো কেন বৈষম্য?

রতন রয় নামের আরেকজন লিখেন, সিলেট, ফেনী হইলে বিকাশে টাকা তুলে এবং ত্রাণ দিয়েও টাকা ব্যাংকে জমা থাকতো। মানুষের আবেগ, চোখের কান্নার শেষ থাকতো না...

কোটা আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক শাহরিয়ার সোহাগ। তিনি ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, রংপুর বিভাগকে আমরা আদর করে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ ডাকব! তার পোস্টের নিচে মোজাম্মেল হৃদয় নামের একজন কমেন্টে লেখেন, আর কুড়িগ্রাম তার রাজধানী।

রিফাত আল জোহা নামের একজন লেখেন, ‘দেশের এই অংশে বন্যা আসলে, মানবতা যেন শুধু দক্ষিণমুখীই না থাকে প্রিয় ভাই...’

এদিকে উত্তরবঙ্গে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মো. আবু বাকের মজুমদার। ফেসবুক পোস্টে তিনি রবিবার জানিয়েছেন, ‘অতি ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উত্তরবঙ্গে বন্যা দেখা দিয়েছে। আমাদের কাছে পূর্বে উত্তলিত যে নগদ অর্থ আছে, সেটা দিয়ে উত্তরবঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা একান্তই কাম্য।’

এদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আবারও মাঝারি ধরনের বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যানুযায়ী, উজানের বৃষ্টিপাতের কারণে গতকাল রাত থেকে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট জেলায় ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় প্রতি বছর ছোট বড় নানা ধরনের বন্যা দেখা যায়। বন্যা ঠেকাতে নানারকম উদ্যোগ নেয়া হলেও বন্যা পুরোপুরি রোধ করা যায়নি। ফলে এসব এলাকার মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত